kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিবিসি বাংলার খবর

অজ্ঞাত সংখ্যক মানুষের ভাগ্য অজানা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৩৩



অজ্ঞাত সংখ্যক মানুষের ভাগ্য অজানা

ঢাকার কাছে টঙ্গীতে টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড নামের প্যাকেজিং কারখানাটিতে বয়লার বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড দেড় দিনেও থামানো যায়নি। দুপুরে কারখানাটির কাছে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা কারখানাটির ভেতরে অবিরাম পানি ছিটিয়ে যাচ্ছেন।

আর ধসে পড়া ভবনটির যেটুকু এখনো দাঁড়িয়ে আছে সেটুকুর বিভিন্ন জানালা দিয়ে গলগল করে বের হচ্ছে ধোঁয়া। হাজার হাজার উৎসুক জনতা আশপাশে ভিড় করেছে। তাদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক অজিত কুমার ভৌমিক কারখানাটিতে নিহতের সর্বশেষ সংখ্যা ২৬ জন বলে উল্লেখ করছেন। তিনি বলেন, ভবনটি ধসে পড়ার ফলে পরিস্থিতি একটু জটিল হয়ে উঠেছে। এই আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে আরো সময় প্রয়োজন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আগুন পুরোপুরি নেভানোর পরেই রয়েছে ভেতরে ঢুকে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রশ্ন। তবে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানাচ্ছেন, ভেতরে ঢোকাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞের মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত পেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে কারখানার আশপাশে বেশ কিছু মানুষকে তাদের স্বজনদের ছবি হাতে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। ভেতরে ঠিক কি পরিমাণ লোক আটকা পড়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলের কাছেই জেলা প্রশাসনের একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

সেখান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাশেম জানিয়েছেন, তারা নিখোঁজদের তালিকা তৈরি করছেন, এখন পর্যন্ত ৯ জনের নাম তারা পেয়েছেন। তবে তালিকাটি চূড়ান্ত নয়। কারখানাটিতে দিনরাত তিনটি পালায় শ্রমিকরা কাজ করতেন। প্রতি পালায় দেড় শ জনের মতো শ্রমিক কাজ করতেন বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

তবে শুক্রবার রাতের পালায় এক শ কিংবা তার কম সংখ্যক শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে অনেকে উল্লেখ করছেন। দুটি শিফটের মধ্যবর্তী সময়ে দুই পালার শ্রমিকরাই কারখানাটির ভেতরে অবস্থান করতেন।

শনিবার ভোরে যখন বয়লার বিস্ফোরিত হয়, তখন কারখানাটিতে এ রকম দুটি পালার মধ্যবর্তী সময় চলছিল। নিখোঁজ যারা রয়েছেন, তাদের অনেকেই পরের পালায় কাজ করার জন্য একটু আগেভাগে ঢুকেছিলেন বলে জানাচ্ছেন তাদের স্বজনরা।

মো. রফিকুল ইসলাম কারখানাটির প্রিন্টিং বিভাগের একজন কর্মী। তার চাচা মোহাম্মদ ইসমাইলও একই বিভাগে কাজ করতেন। চাচাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলছেন, তার জানামতে এ রকম ৫০-৬০ জনের মতো মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

কারখানাটির আরেকজন শ্রমিক বলছেন, ধারণা ২০-৩০ জনের মতো মানুষ ভেতরে আটকে পড়ে থাকতে পারে। তবে সবাই একবাক্যেই বলছেন, ভেতরে যারা আটকে পড়েছিল তারা সম্ভবত আর জীবিত নেই।


মন্তব্য