kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'সরকার বিপুল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে পরিণত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫২



'সরকার বিপুল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে পরিণত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে'

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, সরকার দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণসহ চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বিপুল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে পরিণত করার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি আজ আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

 
আগামীকাল ৮ সেপ্টেম্বর আর্ন্তজাতিক সাক্ষরতা দিবস। এ বছর বিশ্বব্যাপী আর্ন্তজাতিক সাক্ষরতা দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করা হচ্ছে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন আয়োজনে দিবসটি পালিত হবে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘অতীতকে জানব, আগামীকে গড়ব’।  
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সুশিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদ অপরিহার্য।  
তিনি বলেন, একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার দেশের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন করা ও জীবন ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত মানব সম্পদ গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।  
মন্ত্রী বলেন, সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে ঝরেপড়ার হার ও বৈষম্য হ্রাস পেয়েছে এবং শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি পেয়েছে।  
দিবসটি উপলক্ষে নানা আয়োজনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুবর্ণ জয়ন্তী হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবারের আর্ন্তজাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক বার্তা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সকাল সাড়ে ৭টায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
মোস্তাফিজুর ররহমান বলেন, সবার জন্য শিক্ষা এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার লক্ষ্যসমূহ অর্জনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব ৫ বছর মেয়াদি গ্লোবাল এডুকেশন ফার্স্ট ইনিশিয়েটিভ (জিইএফআই) চালু করেন। এ উদ্যোগের প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সারাবিশ্বের ১৪টি দেশ চ্যাম্পিয়ন হয়। যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ সাফল্যে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনেসকো ‘শান্তি বৃক্ষ’ পদক লাভ করেন।
তিনি বলেন, নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো’র মাধ্যমে সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প’ নামক একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলায় ১৫ থেকে ৪৫বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা ও দক্ষতা ভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।  
সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে দেশের শতভাগ মানুষকে সম্পদে পরিণত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা মুক্ত সোনার বাংলা গড়তে গণমাধ্যমের সহায়তা কামনা করেন।  
মন্ত্রী বলেন, একজন মানুষকে শিক্ষিত, সচেতন ও কর্মদক্ষ তথা উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে পরিণত করার লক্ষ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য