kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিদেশে যাবার প্রাক্কালে দুই জেএমবি দম্পতি গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৫৪



বিদেশে যাবার প্রাক্কালে দুই জেএমবি দম্পতি গ্রেপ্তার

এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্যরা আজ রাজধানী ও নারায়নগঞ্জ থেকে বিদেশে যাবার প্রাক্কালে দুই জেএমবি দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে।  
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মারজিয়া আক্তার ওরফে সুমি (১৯), মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে সুলতান মাহমুদ তাপস ওরফে মাহমুদ (১৮), মোঃ আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিনুল (৩৪) ও নাহিদ সুলতানা (৩০)।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ আনন্দ সিনেমা হলের বিপরিতে একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে সুমি, মাহমুদ ও অমিনুলকে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী আজ বিকেল ৩ টার দিকে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা উপজেলার নিজ বাসা থেকে নাহিদ সুলতানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে জিহাদী বই, লিফলেট, সিডি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।  
মারজিয়া আক্তার সুমি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তিনি বেশ কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জেএমবি’র সাথে সংযুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি জেএমবি’র তাহরিমা এবং টেলিগ্রাম গ্রুপের সাথে সংযুক্ত হন। এই গ্রুপটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। তাদের মূল কাজ হলো, বাছাইকৃত সদস্যদের বাংলাদেশের ভিতরে এক একটি করে অভিযানের দায়িত্ব দেয়া এবং অভিযান সফল হলে তাদেরকে বিদেশে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা।
এদেরই আরেকটি গ্রুপ হচ্ছে মোটিভিশন গ্রুপ। এই গ্রুপ থেকেই আফিফ, কাইফ, জাইশান ও মফিজ নামে আরো অনেকে সুমির সাথে জিহাদ সংক্রান্ত বিভিন্ন কথা বলত এবং তাকে যুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্য যেমন-আহত ছোট বাচ্চাদের ছবি, মেয়েদের ছবি, অসহায় মানুষের ছবি, কিছু হাদিস, যুদ্ধের বিভিন্ন ভিডিও এবং খিলাফাত সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পাঠাত এবং জিহাদে যাওয়ার জন্য তাকে উদ্বুদ্ধ করত। এভাবেই ধীরে ধীরে সুমি মাহমুদের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে তাকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে তারা গাজীপুরস্থ সাইনবোর্ড এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সংগঠনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা দেশত্যাগ করার পরিকল্পনা করেন।
মোঃ শরিফুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তিনি জেএমবি’র একজন সক্রিয় সদস্য। সেও তাহরিমা এবং টেলিগ্রাম গ্রুপে কাজ করত এবং হিযরতের সদস্যদের সংগ্রহ করত। তারপর হিযরতের জন্য আগ্রহী সদস্যদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তÍত করে দিতেন। বর্তমানে দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারী এড়াতে তিনি বিদেশে যাবার সিদ্ধান্ত নেন।
মোঃ আমিনুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি ও নাহিদা সুলতানা জেএমবির সক্রিয় সদস্য। আমিনুল সরাসরি সংগঠনের উপরের সারির নেতাদের নির্দেশ অনুসারে বিভিন্ন অপারেশনাল কর্মকাণ্ডের জন্য সদস্য সংগ্রহ এবং মোটিভেট করে থাকে। ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। কিন্তু শুধুমাত্র জঙ্গি গ্রুপে নিজেকে অর্ন্তভুক্ত করার ফলে তিনি তাদেরই দলের অনুসারী একটি মেয়েকে (নাহিদা) সংগঠনের সিদ্ধান্তে বিবাহ করে হিযরতের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা করেন।
নাহিদ সুলতানা জানায়, তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যক্রমে অর্ন্তভুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে তিনি প্রশিক্ষণের জন্য দাওলাতুল ইসলামের এ্যাপস ব্যবহার করতো। তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারি তুলারাম কলেজ থেকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি নিজে মাস্টার্স পাশ করা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আদর্শিক কারণে ও জঙ্গি মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং এ দলে যুক্ত হওয়ায় সংগঠনের সিদ্ধান্তে একজন এইচএসসি পাশ, বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনককে বিবাহ করে টঙ্গী এলাকায় বসবাস শুরু কেরন।  


মন্তব্য