kalerkantho


পর্যটন শিল্পের বিকাশে ফরিদপুরের ব্র্যান্ডিং নাম ‘ঐতিহাসিক ফরিদপুর’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৪৫



পর্যটন শিল্পের বিকাশে ফরিদপুরের ব্র্যান্ডিং নাম ‘ঐতিহাসিক ফরিদপুর’

ফরিদপুর জেলায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও এ ব্যাপারে জেলার ব্র্যান্ড নাম নির্ধারণের লক্ষ্যে গতকাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. এএনএম সবুরের সভাপতিত্বে সভায় সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ যোগ দেন।
সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে জেলার ব্র্যান্ড নাম ‘ঐতিহাসিক ফরিদপুর’ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এই নামকরণের যথার্থতা হিসেবে পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে জেলায় বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান, কাঠামো, মসজিদ ও মন্দির নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হয়।
সভায় ষোড়শ শতাব্দীতে জেলার ভাঙ্গা উপজেলার পাতরাইল গ্রামে বিশাল মসজিদ নির্মাণের নিদর্শনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এখানে ওই সময় বড় শহর ছিল, নইলে এত বড় মসজিদ নির্মাণ করা সম্ভব হতো না।
বোালমারী উপজেলার সাতৈর এলাকায় গ্র্যান্ড ট্রাংক রোডের পাশে আরেকটি অতি প্রাচীন মসজিদের কথা উল্লেখ করে সভায় বলা হয়, স¤্রাট শের শাহ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে পাঞ্জাব পর্যন্ত এই সড়ক নির্মাণ করেছিলেন।
এছাড়া মধুখালী উপজেলায় রয়েছে মোঘল আমলে নির্মিত ‘মথরাপুর দেউল’ নামে ইটের তৈরি খাড়া সুউচ্চ এক কাঠামো। যা ভুশনার শাসক রাজা সিতারাম রায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের নিদর্শন হিসেবে মোঘলরা তৈরি করেছিল।
এই দু’টি মসজিদ ও মুথরাপুর দেউল বর্তমানে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, যার কিছু সংস্কার করা হয়েছে।
সভায় এই তিন প্রাচীন কাঠামো ও জেলার প্রসিদ্ধ পাটকে (২২টি বেসরকারি পাটকল চালুরত) উপজীব্য করে লোগো তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। লোগোতে জেলার লাখো মানুষের জীবনে হাসি-কান্নার সঙ্গে জড়িত পদ্মা নদীকেও অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পর্যটকরা যাতে সহজেই এই ব্র্যান্ড নামের মাধ্যমে ফরিদপুরকে চিনতে পারে এবং পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করতে পারে সেজন্যই এই ব্র্যান্ড করা হচ্ছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
জেলার পর্যটন শিল্প বিকাশে এটি সাহায্য করবে বলেও সভায় মতামত ব্যক্ত করা হয়।
কয়েকজন কমার্শিয়াল শিল্পীর মাধ্যমে এই লোগো তৈরি করা হবে এবং সবচেয়ে সুন্দরটি নির্বাচন করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


মন্তব্য