kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

এসপি বাবুলের অব্যাহতি কেন?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:২৮



এসপি বাবুলের অব্যাহতি কেন?

চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও এসপি বাবুল আক্তার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে এখনো কথা বলেননি৷ তবে তাঁকে অব্যাহতি দেয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে৷ প্রশ্নটা হলো, এভাবে অব্যাহতি দেয়া হলো কেন বাবুল আক্তারকে?
সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত এসপি বাবুল আক্তার এখন তাঁর শ্বশুরের ঢাকার বাসাতেই অবস্থান করছেন৷ গত জুনে চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের হাতে তাঁর স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু নিহত হন৷
বাবুল আক্তারের অব্যাহতি প্রসঙ্গে তাঁর শ্বশুর মোশাররফ হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কী প্রক্রিয়ায় বাবুলকে অব্যাহতি দেয়া হলো তা স্পষ্ট নয়৷ তাঁর এর বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে৷ আমি বিশ্বাস করি, বাবুল কোনোভাবেই আমার মেয়ে মিতু হত্যায় জড়িত না৷''
এদিকে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘ (মিতু হত্যা মামলার) তদন্ত চলছে৷ বাবুল আক্তার মিতু হত্যায় জড়িত বলে এখনো এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷''
বাবুল আক্তারকে মঙ্গলবার চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘‘তার (বাবুল আক্তার) আবেদনের প্রেক্ষিতেই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো৷''
তবে বাবুল আক্তার এর আগে আরেক আবেদনপত্রে বলেছিলেন, ‘‘বিগত ২৪.০৬.২০১৬ ইং তারিখে পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাধ্য হয়ে আমাকে চাকরির অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়৷ একজন সত্‍ পুলিশ অফিসার হিসেবে এবং আমার সন্তানদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এই চাকরি৷ এমতাবস্থায় উক্ত অব্যাহতিপত্রটি প্রত্যাহারের আবেদন জানাচ্ছি৷'' কিন্তু তার এই আবেদন শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি৷
৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে হত্যা করা হয়৷ হত্যার কিছু দিন আগেই বাবুল এসপি পদে পদোন্নতি পান এবং তাকে ঢাকায় বদলি করা হয়৷ হত্যাকান্ডের সময় বাবুল ঢাকায় ছিলেন৷ খবর পেয়ে ওই দিনই তিনি চট্টগ্রামে যান৷ এর আগে তিনি চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর-দক্ষিণ জোনের দায়িত্বে ছিলেন৷ জঙ্গি দমনে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকার কারণে পুলিশ শুরুতে বলেছিল, বাবুলের স্ত্রী মিতু হত্যায় জঙ্গিরা জড়িত থাকতে পারে৷
কিন্তু ২৪ জুন মধ্যরাতে হঠাত্‍ বাবুল আক্তারকে মিতু হত্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকার বনশ্রী এলকায় শ্বশুরের বাসা থেকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেয়া হয়৷ ১৬ ঘন্টা পর তাকে ২৫ জুন সন্ধ্যায় আবার তাঁকে শ্বশুরের বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়৷ আর তখনই কিছু সংবাদ মাধ্যমে মিতু হত্যায় বাবুল আক্তার জড়িত বলে খবর প্রকাশ হয়৷ সংবাদ মাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়, বাবুল আক্তারকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার শর্তে রেহাই দেওয়া হয়েছে৷ আর বাবুল আক্তারও তার চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদনে বলেছেন, তিনি ২৪ জুন পদত্যাগে বাধ্য হন৷
বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বুধবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি বাবুল মিতু হত্যাকান্ডে জড়িত নয়৷ আর মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও আমাকে কিছু জানায়নি পুলিশ৷ আমি সংবাদ মাধ্যম থেকে যেটুকু জানতে পারছি, তার বাইরে কিছু জানিনা৷''
তিনি বলেন, ‘‘বাবুল চাকরি ফিরে পেতে আবেদন করেছিল৷ সে বলেছে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে৷ এরপরও কিভাবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দেয়া হলো, তা আমি বুঝতে পারছিনা৷'' টেলিফোন সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘‘বাবুল চাইলে এর বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে৷ বাবুল আমার বাসায়ই আছে৷ আমার সঙ্গে এ নিয়ে তার কথাও হয়েছে তবে সে আদালতে তার অব্যাহতি চ্যালেঞ্জ করবে কিনা তা আমাকে এখনো জানায়নি৷''
মোশাররফ হোসেন নিজেও একজন অপসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি)৷ চাপ দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করার কথা বলা হলেও তারপরে তার পদত্যাগপত্র কিভাবে গ্রহণ করা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত, এ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাইনা৷ তবে এখন পুলিশে কী নিয়ম আছে, তা জনিনা৷'' এ বিষয় নিয়ে ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা পুলিশ সদর দপ্তরের কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি৷
মিতু হত্যার তদন্ত করছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)৷ মিতু হত্যাকান্ডে বাবুল আক্তার জড়িত কিনা তা জানতে চাইলে সিএমপি'র কমিশনার মো. ইকবাল বাহার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা হলো তদন্তের বিষয়৷ যখন সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, বা যদি কখনো পাওয়া যায়, তখন বলা যাবে৷ এখন আমি সরাসরি বলব- ‘না'৷''
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম পুলিশ এরই মধ্যে মিতু হত্যায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে৷ গ্রেপ্তারকৃতরা জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছে৷ তবে মূল সন্দেহভাজন মুসা এখনও আটক হয়নি৷ ফলে এখনও জানা যায়নি, মিতু হত্যার নেপথ্যে আসলে কারা আর হত্যার মোটিভই বা কী৷


মন্তব্য