kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল দুই দম্পতি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:২৬



পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল দুই দম্পতি

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক হওয়া নব্য জেএমবির সদস্য দুই দম্পতি প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অভিযান তাদের ওই চারজনকে আটক করে র‌্যাব-২ এর সদস্যরা।

আজ বুধবার সকাল ১১টায় র‌্যাব-২ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জেএমবির বেশ কয়েকজন সদস্য জিহাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে-এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের বিপরীতে একটি রেস্টুরেন্ট অভিযান চালায়।

সেখান থেকে মারজিয়া আক্তর সুমি (১৯), মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে সুলতান মাহমুদ ওরফে মাহমুদ (১৮), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিনুলকে (৩৪) আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাত ৩টায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে নাহিদা সুলতানা(৩০) নামে অপর এক নারীকেও আটক করে। তাদের কাছ থেকে জিহাদি বই, লিফলেট, সিডি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমি জানিয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে সে জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর জেএমবির থ্রিমা ও টেলিগ্রাম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়। এই গ্রুপের কাজ হলো বাছাইকৃত সদস্যদের বাংলাদেশের ভেতরে একটি করে অভিযানে দায়িত্ব দেওয়া এবং অভিযান সফল হলে বিদেশে নিরাপদ স্থানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।

এই গ্রুপ থেকেই আফিফ, কাইফ, জাইশান ও মফিজ নামে আরও অনেকের সঙ্গে সুমির কথা হয়। এভাবে সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এরপর ২০ আগস্ট বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সে। পরে সংগঠনের সিদ্ধান্তে মাহমুদের সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তারা দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছিল। মাহমুদ জানিয়েছে, সে জেএমবির সক্রিয় সদস্য। সে হিযরতের সদস্য সংগ্রহ করতো। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে আমিনুল জানিয়েছে, সে ও নাহিদা জেএমবির সক্রিয় সদস্য। সে সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে অপারেশনাল কর্মকাণ্ডের লোক সংগ্রহ এবং তাদের প্রভাবিত করতো।

দুই সন্তানের বাবা আমিনুল সংগঠনের সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে নাহিদাকে বিয়ে করে এবং দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছিল। নাহিদা জানিয়েছে, সে ফেসবুকের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত হয়। পরবর্তীতে দাওয়াতুল ইসলাম অ্যাপস ব্যবহার করতো। আদর্শিক কারণে ও জঙ্গি মতাদর্শে বিশ্বাসী দলে যুক্ত হওয়ায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে সে ২২ মে আমিনুলকে বিয়ে করে। তারা আরও জানিয়েছে, দেশে চার-পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কয়েকটি সক্রিয় গ্রুপ রয়েছে। তারা হত্যাসহ আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করছে।    

 


মন্তব্য