kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেন হচ্ছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:২১



এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেন হচ্ছে

প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার-লেনে উন্নীতকরণসহ ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
এ সব প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৮৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩ হাজার ৩৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৯ হাজার ৫২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা যোগান দেয়া হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়কটি জাতীয় মহাসড়কের অংশ। এটি চার-লেনে উন্নীত হলে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে যানবাহন চলাচল বাড়বে।  
এ ছাড়া এটি ব্যবহার করে পরবর্তীতে বাংলাবান্ধা দিয়ে ভারত ও নেপাল এবং বুড়িমারী দিয়ে ভারত ও ভুটানের সাথে উপ-আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ সহজতর হবে। আঞ্চলিক আন্তঃযোগাযোগের অংশ হওয়ায় সড়কটি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্মাণ করা হবে বলে তিনি জানান।
উন্নত দেশগুলোর মতোই আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে এ চার-লেনে। প্রকল্পের আওতায় এ সড়কের দু’পাশে ধীরগতিসম্পন্ন যানবাহনের লেনও তৈরি করা হবে, যার ফলে এটি ছয়-লেনে প্রশস্ত হবে।  
এর পাশাপাশি মহাসড়কে ২ হাজার ৬৩৫ মিটারের তিনটি ফ্লাইওভার, ৪১১ মিটারের একটি রেলওয়ে ওভারপাস, ৩২টি ব্রীজ, ১৬১টি কালভার্ট, ১১টি পথচারী ওভারপাস, ৩৯টি আন্ডারপাস এবং একটি ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হবে।  
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৮৮১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ঋণ দেবে ৯ হাজার ৩৩৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। বাকী ২ হাজার ৫৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে। সেপ্টেম্বর ২০১৬ থেকে আগস্ট ২০২১ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পসমূহ হলো ২০৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা ও রংপুরস্থ আবহাওয়া রাডারের উন্নয়ন প্রকল্প, ২২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প, ২১৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী প্রকল্প, ৭৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে রাউজান শিল্পনগরী প্রকল্প, ২০৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম নগরীর সিরাজউদ্দৌলা রোড থেকে শাহ আমানত ব্রীজ সংযোগ সড়ক পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ (বাকলিয়া এক্সেস) প্রকল্প এবং ৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা জেলার জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে ভদ্রা ও সালতা নদী পুনঃখনন প্রকল্প।  
উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি সার্টিফিকেট সনদপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হবে না, এটি তরুণদের তথ্য-প্রযুক্তির বিষয়ে দক্ষতা তৈরিতে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক বাজারে আইটি পণ্য ও সেবা রফতানিতে বাংলাদেশের যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগাতে প্রকল্পটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নদী ভাঙ্গন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ীঘর নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক অনুদান সহায়তা দ্রুত পৌঁছায় দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় আপতকালীন সহায়তা কার্যক্রম চালানোর মতো প্রস্তুতি সার্বক্ষণিক রাখতে বলা হয়েছে।


মন্তব্য