kalerkantho


বংশালে প্রতিপক্ষের হামলায় কেমিক্যাল ব্যবসায়ীর মৃত্যু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৮



বংশালে প্রতিপক্ষের হামলায় কেমিক্যাল ব্যবসায়ীর মৃত্যু

পুরান ঢাকার বংশালে পানির লাইন বসানো নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. মোখলেসুর রহমান (৫৫) নামে এক কেমিক্যাল ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে একবার লাশ বাসায় নিয়ে গেলেও পরবর্তীতে হত্যার অভিযোগ এনে আবার তার লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসে তারা। অপরদিকে পুলিশও লাশের ময়নাতদন্ত করে হত্যার কারণ জানতে চায়। আজ সোমবার বিকাল ৫টার দিকে বংশালের ৭১, আবুল হাসনাত রোডের সাত রওয়াজার বড় মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।  

নিহতের স্ত্রীর ভাইয়ের ছেলে কাজী ফয়সাল বলেন, ‘আবুল হাসনাত সড়কের ৭১ নম্বর বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকত মোখলেসুর রহমান। তার প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেন কিছুদিন আগে রাস্তা খুড়ে বাড়িতে পানির লাইনের সংযোগ দেয়। এতে বৃষ্টিতে ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে সমস্যা হয়। আজ বিকাল ৪টার দিকে জাহাঙ্গীরকে রাস্তা সংস্কার করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে মোখলেসুর রহমান। তখন জাহাঙ্গীর করবে না বলে জানিয়ে দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।  
তিনি আরো বলেন, জাহাঙ্গীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার মো. আউয়ালের অনুসারি। বিষয়টি তিনি কমিশনারকে জানান। এরপর বিকাল ৫টার দিকে জাহাঙ্গীর ও তার ছেলে দিলদারসহ কমিশনারের ১৫ থেকে ২০ জন এসে মোখলেসুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। তাকে কিল-ঘুষি দিতে থাকে। এরপর তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এর এক পর্যায়ে মোখলেসুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ’

ফয়সাল আরও বলেন, ‘আমরা লাশ নিয়ে বাসায় চলে যাই। বাসায় যাওয়ার পর নিহতের দুই ছেলে তারেক রহমান ও তানভীর রহমান এবং নিহতের ছোট ভাই ফারুক হোসেন সিদ্ধান্ত নেয় লাশের ময়নাতদন্ত করবে। কারণ তাদের হামলায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ’

তিনি বলেন, ‘নিহতের ছোট ভাই ফারুক হোসেন স্থানীয় কমিশনার আউয়ালের বিরুদ্ধে গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। তারা দুজনই আওয়ামী লীগ করেন। এই শত্রুতার জের ধরে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। ’

এ ব্যাপারে বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, ‘নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তার মৃত্যুর কারণ জানতে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য বলেছি। লাশের ময়নাতদন্ত করার জন্য ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়েছে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে এখনও কাউকে আটক করিনি। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ’


মন্তব্য