kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ

নড়াইল প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৩৯



বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ

আজ ৫ সেপ্টেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটিতে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন বাংলা মায়ের এই দুঃসাহসী সন্তান।

জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে (বর্তমানে নূর মোহাম্মদ নগর) জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা। মতান্তরে জেন্নাতা খানম। বাল্যকালেই তিনি বাবা-মাকে হারান। লেখাপড়া করেছেন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। তবে এ বিষয়ে মতান্তর রয়েছে।

১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর, বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি) যোগদান করেন। দিনাজপুর সীমান্তে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই বদলী হন যশোর সেক্টরে। পরবর্তীতে তিনি ল্যান্সনায়েক পদে পদোন্নতি পান। মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে অংশগ্রহণ করে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ চলাকালীন ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন নড়াইলের এ সাহসী সন্তান (নূর মোহাম্মদ)। এ সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর এস এ মঞ্জুর। এদের নেতৃত্বেও প্রাণপণ লড়েছেন নূর মোহাম্মদ।

৫ সেপ্টেম্বর পাকবাহিনীর গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলেও সহযোদ্ধাকে কাঁধে নিয়েই এলএমজি হাতে শত্রুপক্ষের সাথে যুদ্ধ করেছেন। হঠাৎ করে পাকবাহিনীর মর্টারের আঘাতে নূর মোহাম্মদের হাঁটু ভেঙে যায়। তবুও তিনি গুলি চালিয়ে যান। দেশের জন্য লড়াইয়ে শেষ শক্তিটুকু উজাড় করে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই বীর।

১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নূর মোহাম্মদ। ২০০৮ সালে 'মহিষখোলা'র নাম পরিবর্তন করে 'নূর মোহাম্মদ নগর' করা হয়। নাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে শুরু করে নূর মোহাম্মদ নগরে। তার স্মৃতিরক্ষার্থে নির্মাণ করা হয়েছে গ্রন্থাগার. জাদুঘর ও স্মৃতিস্তম্ভ। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজ। এখানে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়ে গর্বিত শিক্ষার্থীরা। তবে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজটি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি।

এদিকে, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে বিভিন্ন ধরনের বই-পুস্তক থাকলেও তার ব্যবহৃত জিনিসপত্রসহ কোনো স্মৃতিই রাখা হয়নি সেখানে। এমনকি নূর মোহাম্মদের ব্যবহৃত বাইসাইকেলটিও স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষিত হয়নি।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের বাইসাইকেলটিসহ তার ব্যবহৃত জিনিসিপত্র স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করাসহ কলেজটি এমপিওভুক্ত করা, নূর মোহাম্মদের বসতভিটায় স্মৃতিস্তম্ভের পাশে একটি বিশ্রামাগার নির্মাণের দাবি করেছেন নূর মোহাম্মদের স্ত্রীসহ এলাকাবাসী।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ জানান, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তকরণের জন্য আমরা নতুনভাবে লিখেছি, আশা করি অচিরেই তা সম্ভব হবে। নূর মোহাম্মদের স্মৃতি রক্ষার্থে তার বাড়িসহ এলাকাটির আরো উন্নয়নের কথা জানালেন তিনি।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলের নূর মোহাম্মদ নগরে তার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, কোরআনখানি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।


মন্তব্য