kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফাঁসি স্থগিত ও দেশে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আহ্বান জানাল এইচআরডাব্লিউ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:২৭



ফাঁসি স্থগিত ও দেশে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আহ্বান জানাল এইচআরডাব্লিউ

এবার মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি স্থগিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। পাশাপাশি বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা একেবারে বাতিলেরও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) হিউম্যান রাইটস ওয়াচ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমেদ বিন কাসেমকে ছেড়ে দিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডাব্লিউ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর গত ৮ মার্চ আপিলের ওই সাজাই বহাল থাকে। ৬ জুন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তা পুনর্বিবেচনার জন্য ১৯ জুন আবেদন করেন মীর কাসেম। সর্বশেষ ৩০ আগস্ট (মঙ্গলবার) তার রিভিউ আবেদনও খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।

হিউম্যান রাইটসের বিবৃতিতে বলা হয়, সর্বোচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার মানে হলো কয়েক দিনের মধ্যেই মীর কাসেম আলীকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সময়সীমা পার হওয়ার পরই এ দণ্ড কার্যকর করা হবে।

বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, '১৯৭১ সালে সাধারণ জনগণের ওপর নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে ঠিক, কিন্তু তাতে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রেখে করা উচিত। কাসেম আলীর মামলার ব্যাপারে স্বচ্ছতা নিয়ে যদি সামান্যতমও সন্দেহ থাকে তবে কর্তৃপক্ষের উচিত হবে মৃত্যুদণ্ড খারিজ করা। '

বিবৃতিতে মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমেদ বিন কাসেম নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে। মীর কাসেমের ছেলে মীর আহমেদ বিন কাসেমকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে তার পরিবার। অবশ্য সরকারের পক্ষ সে অভিযোগ নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।

হিউম্যান রাইটসের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০ জনেরও বেশি মানুষকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থা বিলোপ করার জন্য পরিকল্পনা করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।


মন্তব্য