kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিশুকে শাল দুধ পান করালে ৩১ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যুরোধ হয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৪৪



শিশুকে শাল দুধ পান করালে ৩১ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যুরোধ হয়

জন্মের ১ ঘন্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের বুকের শাল দুধ পান করালে শতকরা ৩১ ভাগ নবজাতকের মৃত্যুরোধ হতে পারে। পূর্ণ ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করালে ১৩ শতাংশ শিশুমৃত্যু এবং ৬ মাস বয়সের পর মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি বাড়তি খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করলে শতকরা ৬ ভাগ শিশু মৃত্যু হ্রাস করা সম্ভব।


আজ দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে মাতৃদুগ্ধ পানের প্রচার ও প্রসারে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত আলোচরা সভায় এক গবেষণা পত্রে এসব কথা উল্লেখ করা হয়।  
বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ড. এস কে রায় এই গবেষণা পত্র উপস্থাপন করেন।  
এতে দেখা যায়, যেসব শিশু মায়ের দুধ পান করেনি তাদের তুলনায় যারা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ পান করেছে তাদের বুদ্ধিমত্তা গড়ে ২ দশমিক ৬ গুণ বেশী। এতে আরো বলা হয়, দেশে প্রতিদিন পাঁচ বছরের কম বয়েসি ২৫০ জন শিশু অপুষ্টিতে প্রাণ হারাচ্ছে। শিশু পুষ্টি পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ অবস্থার ৪টি দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ।  
গবেষণা পত্রে জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার তুলে ধরা হয়। বিডিএইচএসের সূত্র মতে এতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সালে জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওযানোর হার ছিল শতকরা ২৪ ভাগ, ২০০৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ শতাংশে, ২০১১ সালে এই হার ৪৭ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৫৭ শতাংশে এসে দাঁড়ায়। ৬ মাস পর্যন্ত শিশু বুকের দুধই পান করলে দেহ বৃদ্ধি ও মেধা বিকাশের সম্পূর্ণ উপাদান যোগাতে পারে। এছাড়া শিশুকে বুকের দুধ পান করালে নারীর স্তন ক্যান্সার, গর্ভাময় ক্যান্সার, স্থুলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।  
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হেসেবে বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, মেরিনা রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বিমান কুমার সাহা, শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ প্রমূখ।  
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে। মাতৃদুগ্ধ পানেও আমরা এগিয়ে রয়েছি। আসছে অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে মাতৃদুগ্ধ পানের ব্যাপকতর প্রচার ও প্রসারে জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে সেমিনারের উদ্যোগ নেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।  
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে মায়েদের সঙ্গে কথা বলার ও স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ দেয়ার আহবান জানান।  


মন্তব্য