kalerkantho


'রামপাল প্রকল্পে লাভ হলে ভারতের আর লোকসান হলে আমাদের ঘাড়ে আসবে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৫৪



'রামপাল প্রকল্পে লাভ হলে ভারতের আর লোকসান হলে আমাদের ঘাড়ে আসবে'

গায়ের জোরে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, এ প্রকল্পে লাভ হলে ভারতের আর লোকসান হলে আমাদের ঘাড়ে আসবে। লোকসান হলে বোঝা আসবে জনগণের ঘাড়ে। ১৫ বছর পর এটার জন্য বোঝা বহন করতে হবে ইয়াং জেনারেশনকে। তখন ওই নেতারা কোথায় থাকবেন জানি না, আমরা কে কোথায় থাকব জানি না। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মকে এর মূল্য দিতে হবে। তারা এর (বোঝা) থেকে মুক্ত হতে পারবে না।  
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, রামপাল কয়লা বিদ্যুত প্রজেক্ট এখানে হওয়া উচিত নয়। এতে সুন্দরবন অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এমনিতেই ওই অঞ্চলে আইলা, সিডরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই এটা হলে সুন্দরবন শেষ হয়ে যাবে।  
খালেদা জিয়া বলেন, আমরা কখনও বলিনি বিদ্যুৎ নির্মাণ কেন্দ্র বন্ধ করতে হবে। কারণ, বিদ্যুৎ আমাদের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেটা এমন জায়গায় হতে পারে যেখানে পরিবেশ বা মানুষের ক্ষতি করবে না।
 খালেদা জিয়া বলেন, সরকার একেকটা উন্নয়ন প্রকল্প নেয়, দুই মাস পরই তার কস্ট দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়ে যাচ্ছে। এই বাড়ার কারণটা কী? এটা কিন্তু উন্নয়নের জন্য নয়, এখানে কমিশনের ব্যাপার আছে, এটাতে তাদের পকেট ভারি হচ্ছে। আর এই টাকা দেশে যে থাকে তা নয়; দেশের বাইরে চলে ‍যাচ্ছে।  
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই অঞ্চলের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য  জিয়াউর রহমান সার্ক গড়ে তুললেন। তিনি (জিয়াউর রহমান) বললেন, আমরা আমাদের সমস্যা সার্কের মাধ্যমে সমাধান করতে পারব। তিনি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চেয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, সদ্য স্বাধীন দেশ, কিন্তু সবার সামনে মাথা উঁচু করে থাকবে। আমরা কারো কাছে মাথা নিচু করব না। আমরা এগিয়ে যাব। সেভাবেই তিনি তার কাজগুলো করেছিলেন। আমরাও তার (জিয়াউর রহমানের) ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছি।   
খালেদা জিয়া বলেন, আমরা মারামারি ঝগড়াঝাটি নয়, আমরা আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে এটার সমাধান করতে চাই।  
ফারাক্কার বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ফারাক্কা ব্যারাজ ট্রায়াল হিসেবে (বাংলাদেশের) অনুমতি নিয়ে চালু হয়েছিল সাত দিন না দশ দিনের কথা বলে। অথচ তারা এখন পর্যন্ত বন্ধ করে নাই। এটাতো বন্ধুত্বের নিদর্শন হতে পারে না। এভাবে প্রতিটি পদে পদে আমরা বাধাগ্রস্ত হয়েছি।   
খালেদা জিয়া বলেন, এখনও আমরা আরও যেসব চুক্তি শুনতে পাই বা দেখতে পাই তার একটাও দেশের পক্ষে বা জনগণের স্বার্থে নয়। সমস্ত কিছু করা হচ্ছে, দেশের বিরুদ্ধে, দেশের স্বার্থবিরোধী। আর কী সেই চুক্তিগুলি, তা সবাই জানে না। আমরাও জানি না কী করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ প্রমুখ।


মন্তব্য