kalerkantho

সোমবার । ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ । ৩ মাঘ ১৪২৩। ১৭ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ইউপি নির্বাচন বর্জনের হুমকি বিএনপির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ২২:৪২



ইউপি নির্বাচন বর্জনের হুমকি বিএনপির

বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ সরকারি দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও জবরদস্তি অভিযোগ তুলে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিয়েছে বিএনপি।

তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ বলছে, ব্যর্থতা ঢাকতেই নির্বাচন বর্জনের সুযোগ খুঁজছে বিএনপি।

এদিকে নির্বাচনের সহিংসতায় আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে আজ।

বিএনপি নেতাদের হিসেব অনুযায়ী প্রথম দু ধাপের এক হাজার তিনশ ছাপ্পান্নটি ইউনিয়নে তাদের প্রার্থীরা মাত্র ১০৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন।

আর এ দু’দফায় নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩৫জনেরও বেশি। প্রথম দু ধাপের মতো আগামী ২৩ এপ্রিলের তৃতীয় ধাপের নির্বাচনেও অর্ধশত ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি।

দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ শাহজাহান বলছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে বিএনপি থাকবে কি-না তা নিয়ে দু একদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

“ যে অবস্থা চলছে তাতে আরও প্রাণহানি ঘটবে, আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হবে, তারা বাড়িঘর ছাড়া হবে। এ নির্বাচনের যেহেতু গ্রহণযোগ্যতা নেই, যে খেলার প্রতি কারও আস্থা নেই, যেখানে ফল পূর্ব নির্ধারিত সে খেলায় অংশ নেয়া কতটা সমীচীন হবে তা নিয়ে আজ কালের মধ্যেই আমরা সিদ্ধান্ত নিবো,” বলেন মিঃ শাহজাহান।

বাংলাদেশে এবারই প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হচ্ছে। আর সে কারণেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা নৌকা আর বিএনপি প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

মিস্টার শাজাহান বলছেন নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল কি করে সেটি তুলে ধরতেই নির্বাচনে গিয়েছিলো বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনে এতো সন্ত্রাস ও সহিংসতা হবে সেটি তারা কল্পনাও করেননি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো সরকার ও নির্বাচন কমিশনের চরিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরা। সেটি হয়ে গেছে। সবার মতামত দেখলে বোঝা যাচ্ছে যে নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে। ”

তবে নির্বাচন ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এমন অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলছেন সদস্য পদে যারা নির্বাচন করেছেন তাদের মধ্যকার সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতা হয়েছে।

তিনি বলেন এখন এটিকে পুঁজি করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলছে বিএনপি।

“ ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা খুব একটা হয়নি। বিচ্ছিন্ন কিছু হয়েছে। ভোটের পর কিছু হয়েছে। সরকার তা কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করছে। তবে সন্ত্রাসের কারণে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিলে সেটা আড়ালের জন্যে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা সুস্থ রাজনীতি হতে পারেনা,” মন্তব্য করেন মাহবুব উল আলম হানিফ।

তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে গতকালও অন্তত আটটি জেলায় সহিংসতা হয়েছে এবং মাদারীপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে আজ।

এর আগে গত ২২শে মার্চ ও ৩১শে মার্চ প্রথম দু দফায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৩৫ জনেরও বেশি।  


মন্তব্য