kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণের আহবান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ২১:৩৪



ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণের আহবান

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) নেতৃবৃন্দ ইউরিয়াসহ সব ধরনের সার বিসিআইসি’র ডিলারদের মাধ্যমে বিতরণ করার আহবান জানিয়েছেন।
১৯৯৪ সাল থেকে বিএফএ’র সদস্যভুক্ত ডিলাররা ২ লাখ টাকা করে জামানত দিয়ে প্রন্তিক পর্যায়ের চাষিদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহের দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় তাদের এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিএডিসিসহ সরকারিখাতে আমদানিকৃত অন্যান্য সারও কৃষকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে সরবরাহ ও বিতরণ করা সম্ভব।
আজ রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) ২২তম বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তৃতাকালে এ সংগঠনের নেতারা এ কথা বলেন।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন’র (বিএফএ) চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের পরিচালক ও সংসদ সদস্য শওকত চৌধুরী। শিল্পসচিব মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া,দ্যা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া-এর চেয়ারম্যান রাকেশ কাপুর ও মহাপরিচালক সতীশ চন্দর এবং বিএফএ’র সহ-সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন বক্তৃতা করেন।
বিএফএ’র নেতারা জানান, বর্তমানে বিসিআইসি’র নিযুক্ত ৫ হাজার ৩শ’ ডিলার ও ৪৫ হাজার খুচরা বিক্রেতা দেশব্যাপী সারের সুষ্ঠু বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে। এর ফলে দেশে কৃষি উৎপাদনের চাকা সচল রয়েছে।
ইউরিয়া সারের মূল্য সম্পর্কে তারা বলেন, হরতাল অবরোধের মধ্যেও সার ডিলাররা চাষি পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ করে ফসলের বাম্পার ফলনে সহায়তা করেছে।
মিল গেট ও বাফার গুদামে ইউরিয়া সারের মূল্য একই রাখায় বর্তমান সরকারের প্রশংসা করে বিএফএ’র নেতারা ইউনিয়ন পর্যায়ে শূন্য কোটা ছাড়া অংশ বিশেষের জন্য নতুন ডিলার নিয়োগ বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল রাখারও দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ এলাকাভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী মোটা ও চিকন দানার ইউরিয়া সার একই সাথে সরবরাহের আহবান জানিয়ে বলেন, বর্তমানে চাষি পর্যায়ে সারের চাহিদা কম এবং ডিলারদের গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকায় মার্চ থেকে জুন,২০১৬ পর্যন্ত সার উত্তোলন ঐচ্ছিক করতে শিল্পমন্ত্রীর নির্দেশনা চান।
অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বিএফএ’র নেতাদের বক্তব্য ধৈর্য-সহকারে শোনেন।
জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,সরকার খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে কৃষিখাতে ভর্তুকির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি সারে যথাক্রমে ২৪, ১৮, ১৮ ও ২৫ টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে ভর্তুকির এ ইতিবাচক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
আমির হোসেন আমু বলেন,আওয়ামী লীগ সরকারের গত ৭ বছরের শাসনামলে দেশের কোথাও সারের কোনো সংকট হয়নি। অথচ এক সময় সারের দাবিতে ১৮ জন কৃষককে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি চাষি পর্যায়ে সময়মত ন্যায্যমূল্যে সার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে সার ডিলারদের প্রতি আহবান জানান।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিসিআইসি’র সার ডিলাররা পেশাগত সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন চাল রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
তিনি কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে সার ডিলারদের যৌক্তিক দাবিগুলো সংশ্লি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে সমাধান করারও আশ্বাস দেন।


মন্তব্য