kalerkantho


অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি    

১ এপ্রিল, ২০১৬ ১৭:৪৯



অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকালে আটকসহ এদেশে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমেই আটক ১৬৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

একইসঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আটককৃতদের দেশে ফেরত না পাঠানোর দাবিতে গত মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে প্রবাসীরা। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রাটিক দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টনের নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আটক বাংলাদেশিদের বহিষ্কারাদেশ বন্ধের জন্য হিলারির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় ওই সমাবেশ থেকে।

দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'দেশিজ রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং (ড্রাম) এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সম্প্রতি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন অভিবাসীও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট অবৈধপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকালে আটক অভিবাসীদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ তালিকায় ১৬৯ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন। এরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে অবস্থান করছেন। সবাইকে আনা হচ্ছে অ্যারিজোনায় ইমিগ্রেশন কারাগারে।

সেখান থেকেই সরাসরি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের আটক অভিবাসীদের গণহারে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা দক্ষিণ এশিয়ার যেসব মানুষ রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের আশায় আমেরিকায় এসেছেন, তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য আরিজোনার ক্লোরেন্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ক্লোয়েন্সকে গণহারে ফেরত পাঠানোর জন্য স্টেজিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এসব লোকদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশি এবং ২০১৫ সালের শেষ দিকে মুক্তির জন্য তারা অনশন ধর্মঘট করেছিলেন। এরা সবাই বিএনপির কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার সময় উল্লেখ করেছেন যে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।

মার্কিন ইমিগ্রেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবেদনের বর্ণনায় মিথ্যা তথ্য খুঁজে পাওয়ায় সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চান সামগ্রিক পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে যে, অভিবাসনের প্রয়োজনে তারা মিথ্যা বলেছেন। তাদের অধিকাংশই বিএনপির কর্মী-সমর্থক নন বলেও স্টেট ডিপার্টমেন্টে তথ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই দালালকে মোটা অর্থ দিয়ে বিভিন্ন দেশ হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন।

 


মন্তব্য