kalerkantho

26th march banner

মামলাজট কমাতে সান্ধ্য আদালত চালু হবে : প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার    

১ এপ্রিল, ২০১৬ ১৭:২৬



মামলাজট কমাতে সান্ধ্য আদালত চালু হবে : প্রধান বিচারপতি

দেশে মামলাজট কমিয়ে বিচারপ্রার্থীদের রক্ষা করতে সান্ধ্য আদালত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। 'অধস্তন আদালতের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিচারিক কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং সাফল্য নির্ধারণের মানদণ্ড নিরূপণ' শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।

সাভারের খানানে ব্র্যাক সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট মিলনায়তনে আজ শুক্রবার সকালে দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ঢাকায় বিভিন্ন স্তরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক ইউএআইডি'র 'জাস্টিস ফর অল' (জেএফএ) প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট। প্রথম দিনের কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। এ ছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা, ইউএসএআইডি'র প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, "১৬ কোটি মানুষের দেশে বিচারক মাত্র ১৫০০ জন বিচারক নিতান্তই অপ্রতুল। তারপরও আছে বিচারকক্ষের স্বল্পতা। ১৭৩ জন বিচারককে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করতে হয়। যে কারণে মামলাজটে আটকে রয়েছে ত্রিশ লাখ মামলা। " এসব মামলা নিষ্পত্তিতে আইনজীবী ও সরকারের সাড়া পাওয়া গেলে অচিরেই দেশে সান্ধ্য আদালত চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, "দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আর মানবাধিকার রক্ষার জন্যে আমাদের সংবিধান পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান। আমরা যেকোনো মূল্যে এই সংবিধানের মর্যাদা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আমাদের সংবিধানে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট সম্প্রতি কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী তনু হত্যার বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ যেভাবে সোচ্চার হয়ে উঠেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে স্বাগত জানায়। "

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রথম ধাপে ৪০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা কর্মশালার বিভিন্ন সেশনে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার শেষ দিন আজ শনিবার আরো ৪০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা কর্মশালার বিভিন্ন আলোচ্যসূচির ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আজিজুল হক। কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা।

 


মন্তব্য