kalerkantho


৩২৫০ জন অন্ধের চোখে আলো ফিরিয়ে দিয়েছে সন্ধানী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ২৩:১৬



৩২৫০ জন অন্ধের চোখে আলো ফিরিয়ে দিয়েছে সন্ধানী

এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৫০ জন অন্ধের চোখে আলো ফিরিয়ে দিয়েছে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি।
২০১৫ সালে ৫০ জন অন্ধ ব্যক্তির চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে চোখে আলো ফিরিয়ে দিয়েছে বলে সমিতির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কর্নিয়া জনিত অন্ধত্ব বিমোচনের জন্য সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মরনোত্তর চক্ষুদানে অঙ্গিকারে উদ্বুদ্ধকরণ, সংগৃহিত কর্নিয়া বিনামূল্যে বিতরণ ও প্রতিস্থাপন এবং বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চক্ষু সেবাক্যাম্প এবং নাম মাত্র মূল্যে চোখের অন্যান্য রোগের অপারেশনসহ চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। অন্ধত্ব মোচন (চক্ষুদান) আইন, ১৯৭৫ অনুসারে এটি পরিচালিত হয়।
প্রতিষ্ঠা কালিন সময়ে শ্রীলংকার প্রথিতযশার একজন চিকিৎসক ডাঃ হাডসন ডি সিলভা ১৯৮৪ সালের ২৪ নভেম্বর একজোড়া কর্নিয়া বাংলাদেশে এনে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতিকে দান করেন। যা কিশোরী টুনটুনির চোখে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্ণিয়াজনিত অন্ধত্ব দূরিকরণের সূচনা হয় ।
জানা গেছে, সন্ধানী চক্ষুদান সমিতি’র মাধ্যমে মরণোত্তর চক্ষু দান করবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমিতিতে মরণোত্তর কর্নিয়া দানে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন তারা।
এছাড়াও মরণোত্তর কর্নিয়া দানের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, অভিনেত্রী সারা যাকের, সুবর্ণা মুস্তফা, কণ্ঠশিল্পী মেহরীন ও কৃষ্ণকলিসহ এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ব্যক্তি মরনোত্তর চক্ষুদানে অঙ্গিকার করেছেন।
সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে অন্ধত্বের হার ১ দশমিক ৫৩ ভাগ যার মধ্যে প্রায় ৩০ভাগ কর্নিয়াজনিত অন্ধত্বের শিকার। দেশে কর্নিয়াজনিত অন্ধের সংখ্যা ৫ লক্ষাধিক, যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। গড়ে প্রতিবছর প্রায় ৩ হাজার ব্যক্তি নতুন করে কর্নিয়া জনিত অন্ধত্বের শিকার হন। বাংলাদেশের মানুষ প্রধান কৃষি নির্ভরশীল। এ কারণেই কৃষিকাজ জনিত ইনজুরি কর্নিয়া ক্ষতের অন্যতম কারণ।
এদিকে ‘চোখ বেচে থাক চোখের আলোয়। মৃত্যু কেড়ে নেবে প্রাণ, চোখ দানে দৃষ্টি বেচে থাকবে অফুরান। অন্ধজনে দেহ আলো। ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কাংখিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ৪ দিনব্যাপী প্রশিক্ষন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
কারিগরী সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত থেকে বিশেষজ্ঞ দল নিজ খরচে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, সন্ধানী চক্ষু হাসপাতাল জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সষ্টিটিউট হাসপাতাল এবং ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে প্রশিক্ষণ দিবেন। যা এদেশের কর্নিয়া সার্জন ও রোগীদের জন্য এক অপূর্ব সুযোগ।
সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি ও রোটারী ক্লাব,আইএফএফটিবি এবং টিবিআই এর সহযোগিতায় কর্নিয়াজনিত অন্ধত্ব বিমোচন জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
২ বছর মেয়াদী এই কর্মসূচি’র আওতায় ৬ হাজার কর্নিয়া প্রতিস্থাপন, ৮শ’ মেডিক্যাল ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ চিকিৎসক, রোটারিয়ান, সেচ্ছাসেবকদের কর্নিয়া সংগ্রহের প্রশিক্ষণসহ কর্নিয়া সার্জনদের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভূক্ত। - বাসস।


মন্তব্য