kalerkantho


'জড়িতদের গ্রেপ্তারে কোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভের প্রয়োজন নেই'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ২১:৪৮



'জড়িতদের গ্রেপ্তারে কোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভের প্রয়োজন নেই'

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনেও পুলিশ বদ্ধপরিকর। পুলিশ জানিয়েছে, কোনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য কোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভের প্রয়োজন নেই।

এটা পুলিশের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব।
আজ মঙ্গলবার ‘তনু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তে জনগণের সহায়তা চায় পুলিশ’ শীর্ষক গণমাধ্যমে পাঠানো পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
আজ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তনু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ বদ্ধপরিকর। যাঁরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানাচ্ছেন, তাঁদের দাবির প্রতি পুলিশের শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে সে জন্য রাস্তাঘাটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। পুলিশের অপরাধ দমন এবং উদ্‌ঘাটনের পেশাগত দায়িত্বও বাধাগ্রস্ত হয়। কোনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য কোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভের প্রয়োজন নেই। এটা পুলিশের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ। সে জন্য আমরা (পুলিশ) সকলের কাছে সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের যথাযথ তদন্তের জন্য অনুকূল সহযোগিতা প্রত্যাশা করি। এ ক্ষেত্রে সমব্যথী সবাইকে ধৈর্য ধরে পুলিশি তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোহাগী জাহান তনুর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেপ্তারসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিবর্গের আন্দোলনের বিষয়টির প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর মানুষের ওই অনুভূতি ও দাবিকে যথাযথভাবে সম্মান করে। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে বিশেষজ্ঞ ইউনিট সিআইডিকে এই হত্যাকাণ্ডে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে জেলা পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তনু হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে ঘটেনি। তাই সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সাক্ষী সংগ্রহ করা সময় সাপেক্ষ বিষয়। নানা বস্তুগত সাক্ষ্য, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সাক্ষ্য সংগ্রহ করা, বিশ্লেষণ এবং মূল্যায়নের মাধ্যমে এ ধরনের ক্লুলেস অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। অনুমানের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলে সে ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তদন্ত ভুল হলে সবার কাছেই তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এমনকি প্রকৃত দায়ী ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ সেই ভুলের দিকে আঙুল তুলে নানা সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। এতে মামলাটির ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। সে জন্য সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত আসামি চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তনু হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত আসামিকে চিহ্নিত করেই তাকে গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে আমরা প্রত্যয়ী। তবে এটা অবশ্যই সময়সাপেক্ষ। আরও লক্ষণীয় যে, পুলিশকে বেশির ভাগ সময়ই কাজ করতে হয় আইন-কানুন ও বিধি-বিধানের মধ্যে থেকে। পুলিশের পেশাগত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাসংবলিত তদন্ত কর্মকর্তাদের এ ধরনের ক্লুলেস ও স্পর্শকাতর মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে যথেষ্ট সাফল্য আছে। ক্লুলেস মামলা তদন্ত করা সব সময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অত্র মামলার তদন্তের জন্য গঠিত দল এই মামলাটি উদ্‌ঘাটনে যথাযথ মনোযোগী এবং আন্তরিক।


মন্তব্য