kalerkantho


'খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর ফুলের বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ২০:৫২



'খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর ফুলের বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে'

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর অর্থকারী ফসল হিসেবে ফুলের বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে।
বর্তমানে ফুল সৌখিনতার বিষয় নয়। ফুলের ব্যবহার বেড়েছে। ফুলের সুবাস বাড়াতে গবেষণার প্রয়োজন।
তিনি আজ বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউটে দুইদিনব্যাপী প্রথমবারের মতো ফুল মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির (বিএফএস) সভাপতি আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, কৃষি মন্ত্রণালয় সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ, ইউএসএআইডির বাংলাদেশ ফিড দ্যা ফিউচার টিম লিডার মার্ক টেজেনফিল্ড, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইমামুল হক।
ফুলের সৌন্দর্য ও সুবাস নিশ্চিত করতে গবেষণার প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন,বাংলাদেশের অর্কিডসহ বিভিন্ন ফুলের বানিজ্যিক চাহিদা থাকা সত্বেও তা সেভাবে বাজারমূল্য পাচ্ছে না। ফুলের সুবাস কিভাবে স্থায়ী করা যায় তা নিয়ে গবেষণার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে আরও গবেষণা করতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী ফুল সেক্টরকে আরও টেকসই, শক্তিশালীকরণ ও রপ্তানীযোগ্য করতে ফুলচাষীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে সরকারী ও বেসরকারি উদ্যোগের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ফসলি জমির আইলে মৌসুমি সবজি চাষ করা হয়, একই প্রক্রিয়ায় ফুল চাষ করলে কৃষক আরও উপকৃত হবে।
ফুল চাষীদের অধিক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে ফুল দেশে ও বিদেশে ব্যাপকভাবে চাহিদা বাড়বে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশি ফুলের দেশি বাজার এই প্রতিপাদ্য বিষয় সামনে রেখে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার ফেস্ট নামের এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি।
অনুষ্ঠানে ‘ফুল চাষের সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির উপদেষ্টা ড. গয়ানাথ সরকার।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি সভাপতি আবদুর রহিম জানান, বৎসরে ২০১৪Ñ২০১৫ সালে ১০০ মিলিয়ন ডলারের ফুল উৎপাদন করেছে। বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ফুল দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। ১৯৮৩ সালের পরই দেশে ঝিকড়গাছার পানসারা গ্রামে ৩০ শতক জমিতে বাণিজ্যিক ফুলের চাষ শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ১৬ হাজার কৃষক সরাসরি ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত।
মেলায় স্টলের সংখ্যা রয়েছে ২০টি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ফুল চাষি ও বাজারজাতকারীরা মিলনায়তনের গোলাপ, গাঁদা, গ্লাইকোডিয়া, জারবেরা, অর্কিড, রজনীগন্ধাসহ নানারকম রকম ফুলের সমাহার নিয়ে বসেছে এ প্রদর্শনী।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ ফুল মেলা। মেলা উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে ফ্যাশন শো, গোলটেবিল বৈঠক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
পরে প্রধান অতিথি স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং ফুলচাষীদের উদ্যোগে দেশী ফুল ডট কম নামে একটি অনলাইনের উদ্বোধন করেন।


মন্তব্য