kalerkantho

সোমবার । ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ । ৩ মাঘ ১৪২৩। ১৭ রবিউস সানি ১৪৩৮।


'স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতকারীরা এদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ১৮:০৯



'স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতকারীরা এদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে'

স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতকারীরা এদেশ থেকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ। তিনি বলেছেন, যারা ইসলামের শত্রু, মানবিকতার শত্রু, স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতকারী, এদেশ থেকে রাজনৈতিকভাবে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বিপথগামী এসব মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে।
পাকিস্তানি আর্মির সাথে সম্মুখ সমরে নিহত ১৭ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভূমিমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ মন্ত্রীই ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পাবনার দাপুনিয়ার মাধপুর বটতলায় ওই সম্মুখ সমরের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের একটি অধ্যায় শেষ হয়েছে মাত্র। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সেদিনই পূরণ হবে, যেদিন দেশের শাসন ব্যবস্থায় সকলের জন্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।
ভূমিমন্ত্রী শরীফ ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চের ওই সম্মুখ যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিজ কানে শুনে এসে ঈশ্বরদী পেপার মিল, পাকশি রেলওয়ে, থানা ও বিভিন্ন স্থান থেকে তারা ৪২টি দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করেন। তারা আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেম পাকিস্তানি আর্মির উপর হামলা চালানোর।
তিনি বলেন, ২৮ মার্চ পাবনার ডিসি নূরুল কাদেরের নেতৃত্বে পুলিশ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও সাধারণ জনতা পাকিস্তানি আর্মির উপর হামলা চালায়। হামলায় পাকিস্তানি সৈন্য ধরাশায়ী হয়। রাজশাহী থেকে পাকিস্তানি আর্মি কর্নেল বাকি বেলুচ এর নেতৃত্বে কামান, গোলা, হেভী অস্ত্রশস্ত্রসহ ১৩টি সাজোয়া ট্রাক নিয়ে পাবনায় আটকে পড়া পাকসেনাদের রিকভারির জন্য আসে।
তিনি বলেন, ২৯ মার্চ আমরা জানতে পারি তারা পাবনা থেকে দাশুড়িয়া হয়ে রাজশাহী ফিরছে। পাক আর্মি আক্রমণের এটাই সুযোগ ভেবে আমরা পাকশি মাঠ থেকে পাবনার উদ্দেশে হাজার হাজার জনতাসহ ঝাপিয়ে পড়ি। পাবনার দাপুনিয়ার মাধপুর নামক স্থানে একটি বট বৃক্ষকে উপযুক্ত স্থান ভেবে পাকিস্তানী আর্মিদের প্রতিরোধের জন্য সেখানে টেন্স খনন করি। একসময় পাকসেনাদের সাথে আমাদের সংগৃহীত ৪২টি অস্ত্র, পাবনা থানা থেকে পাওয়া আরও ৭টি আধুনিক অস্ত্র ও তীর, বল্লম, হাসুয়া বাঁশ নিয়ে হাজার হাজার জনতা পাকিস্তানি ১৩টি ট্রাক বহরের উপর সেদিন ঝাপিয়ে পড়ে।
মন্ত্রী বলেন, তাদের আক্রমণে সেদিন পাকিস্তানি সেনা মেজর আসলামসহ এক ডজন পাক আর্মি নিহত হয়। পাকিস্তানি আর্মির এ বহরের কারো রাজশাহী যাওয়ার রাস্তা চেনা না থাকায়, মাধপুরের হামলায় তাদের গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ আসায় তারা তাদের সাজোয়া যুদ্ধ যান ফেলে রেখে যে যেভাবে পারে পালাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পরে জেনেছিলাম ঐ পাকিস্তানি আর্মি বহরের সব সৈন্যই রাজশাহী পৌঁছার আগেই বিভিন্ন জায়গায় বীর বাঙালীর আক্রমণে অনেকেই মারা যায়। সেদিনের সেই স্মৃতি ভুলার নয়। তিনি বলেন, আমি হয়তো ঐ যুদ্ধে শহীদ হতে পারতাম। আজ গাজী হয়েও এক বুক ব্যথা নিয়ে ঢুকরে ওঠি। এখনও খুঁজি রাজুকে, খুঁজে বেড়াই হাশেম মল্লি¬ককে। তাঁরা হারায়নি, তাঁরা ইতিহাসের পাতায় আজীবন থাকবে। বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ মার্চের মুক্তি সংগ্রামের ডাকই আমাদের পাগল করে দিয়েছিল। এরপর বঙ্গবন্ধুর আহ্বান পেয়ে আমরা উজ্জীবিত হয়ে পাক আর্মির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অবতীর্ণ হই। পাবনার প্রথম স্বার্থক সম্মুখ মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে এ যুদ্ধটি স্বীকৃতি পাবে বলেও তিনি আশা করেন।
ডিলু বলেন, পাবনার মাধপুর ঐতিহ্যবাহী বটতলার পাশেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভের জন্য ১০ কাঠা জমি তারা বর্তমান বাজার দরে কিনে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে। এ এলাকায় বেশ কিছু খাস জমি রয়েছে এছাড়া অল্প কিছু জমি ব্যক্তি মালিকানায় রয়েছে তারা তাদের কাছ থেকে উপযুক্ত মূল্য দিয়ে কিনে নেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, মাধপুরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্বরূপ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একনেকে অনুমোদনের পরই অচিরেই মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, একটি লাইব্রেরিসহ একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধা লাবু সরদারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবিব, ডেপুটি কমান্ডার আবদুল বাতেন, আবুল কাশেম বিশ্বাস, রশীদুল্লাহ, মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক মুজিবুল হোসেন সমাজী, ঈশ্বরদী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুর রাজ্জাক, ঈশ্বরদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বক্তব্য দেন।


মন্তব্য