kalerkantho

25th march banner

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

কে কি বললো সেটা আমি শুনতে রাজি না : খাদ্যমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ২১:৫৫



কে কি বললো সেটা আমি শুনতে রাজি না : খাদ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে দু’জন মন্ত্রীর আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে সরকারের অনেকেই বলেছেন।

তবে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ঐ দু’জনের মন্ত্রীসভায় থাকার বিষয়ে আইনগত কোন বাধা নেই।

তিনি বলছেন, নৈতিকতার প্রশ্নে মন্ত্রীসভা থেকে সরে যাওয়ার বিষয় একান্ত ব্যক্তিগত।

ঐ দু’জন মন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, তারা আপিল বিভাগের রায়ের লিখিত কপি পাওয়ার পর রিভিউ আবেদন করতে পারেন।

তারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলীর আপিলের রায় প্রকাশের আগে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন।

আপিল বিভাগ থেকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরদিন সোমবার তারা সপ্তাহের নিয়মিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে যোগ দেন।

পরে তারা নিজেদের মন্ত্রণালয়ে অফিস করেন।

তাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রীসভার বৈঠকে, সরকারে বা আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

তবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সিনিয়র মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঐ দুজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যখন আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীসভার বৈঠকেই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। এরপর এখনকার পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোন আবেদন না হলেও বিষয়টা তার সরকার এবং দলকে অস্বস্তিতে ফেলছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলছিলেন, “প্রাথমিকভাবে আমাদের সরকার এবং দলের উচ্চপর্যায় বিষয়টা ভালভাবে নেয় নি। কারণ প্রধান বিচারপতি একটা ইন্সটিটিউট। সেখানে কোন মন্তব্য করার ক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। উদ্ভূত পরিস্থিতি সরকার এবং দলকে অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। ”

এমাসের শুরুতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলীর আপিল বিভাগের রায় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন মন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং আ.ক.ম মোজাম্মেল হক। সে সময় প্রধান বিচারপতিকে জড়িয়ে তারা কিছু বক্তব্য দিয়েছেন।

তাদের ওই বক্তব্যের কারণে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপীল বিভাগ দু’জন মন্ত্রীর প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে সাতদিনের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন।

এই রায়ের প্রেক্ষাপটে আইনজীবীদের আনেকে ঐ দু’জনের মন্ত্রীসভায় থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নৈতিকতার প্রশ্ন এলে সেটা একান্ত ব্যক্তিগত বিবেচনার বিষয় বলে তিনি মনে করেন।

“এমন দণ্ডের কারণে মন্ত্রিত্ব চলে যাবে, সংবিধানে বা কোন আইনে এ ধরণের বিধান নেই। এটাও পরিষ্কার যে, তারা শপথও ভঙ্গ করেননি। তবে, নৈতিকতার প্রশ্ন এলে, তারা দায় নিয়ে নিজেরা মন্ত্রিত্ব ছাড়বেন কিনা, সেটা পুরোপুরি তাদের ব্যক্তিগত বিবেচনার বিষয়। ”

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তারা দু’জনই এখন কথা বলার ক্ষেত্রে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়ার পর তারা রিভিউ আবেদন করতে পারেন, এটুকুই এখন তাদের বক্তব্য।

নৈতিকতার প্রশ্ন বা অন্য যেসব বক্তব্য উঠছে, সেগুলোর ব্যাপারে কামরুল ইসলাম কিছুই বলতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, “কে কি বললো সেটা আমি শুনতে রাজি না। এদের কোনো কথারই উত্তর দেবো না। ”

তারা নিজেরা কি ধরনের পদক্ষেপ নেন, সে দিকেই সকলের দৃষ্টি। তবে সরকার বা দল থেকে এমুহূর্তে তাদের ওপর কোন চাপ তৈরি করা হচ্ছে না বলে সিনিয়র মন্ত্রীদের অনেকে বলেছেন।


মন্তব্য