kalerkantho


হরতালে রাজপথে নেই জামায়াত, উল্টো যানজট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ১৩:২১



হরতালে রাজপথে নেই জামায়াত, উল্টো যানজট

সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকে রাজপথে নেই জামায়াতে ইসলামী। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানে অন্তর্ভূক্তির বিধান থাকবে কি না তা নিয়ে রিট আবেদনের শুনানির বিরোধিতা করে সোমবার দিনব্যাপী সারা দেশে এ হরতালের ডাক দেয় দলটি।

আজ সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকায় যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। মহানগরীর কোথাও জামায়াত-শিবিরকর্মীদের মিছিল কিংবা পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি রাজধানীর কোথাও গোলমালের কোনো খবর। ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, এখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক আছে। দিনের শুরুতে রাস্তায় ব্যক্তিগত যানবাহন ও গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল অন্যদিনের মতোই। সময়ের সঙ্গে বেড়েছে গাড়ির সংখ্যাও।

অফিসযাত্রী ও কর্মজীবী মানুষের ভিড় দেখা গেছে অন্যদিনের মতোই। অন্যান্য সপ্তাহের সোমবারের মতোই আজও রাস্তায় ছিল গাড়ির জটলা। কোথাও কোথাও ছিল ভয়াবহ যানজট।

তবে হরতালের শুরু থেকেই ঢাকার বিভিন্ন সড়কে মোড়ে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান। বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলচালকদের থামিয়ে তল্লাশিও করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন র‌্যাব সদস্যরাও। এদিকে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান রবিবার গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দিয়ে দেশকে ধর্মহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার গভীর চক্রান্তের প্রতিবাদে এ হরতাল ডাকা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে চতুর্থ জাতীয় সংসদে ১৯৮৮ সালের ৫ জুন সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী অনুমোদন পায়। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের সংবিধানে এই পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই সময় হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক। ২৮ বছর আগের ওই আবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া রুলের ওপর সোমবার হাইকোর্টের বৃহ্ত্তর বেঞ্চে শুনানি শুরু হচ্ছে।

 


মন্তব্য