kalerkantho


'নির্বাচনের চাইতে এখনও নালিশেই বেগম জিয়ার বেশি মনোযোগ'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ২১:২৩



'নির্বাচনের চাইতে এখনও নালিশেই বেগম জিয়ার বেশি মনোযোগ'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম জিয়া ও বিএনপি’র ইউনিয়ন পরিষদ অংশগ্রহণের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, নির্বাচনের চেয়ে তাদের বক্তৃতা বিবৃতি আর নালিশেই অধিক মনোযোগ।
প্রধানমন্ত্রী কারো কাছে ভিক্ষার ঝুলি না ফেলে এমনকি চুরি করে পোলাও-বিরানী খাবার চাইতে সৎভাবে রোজগার করে নুনভাত খেয়ে বেঁচে থাকা অনেক সম্মানের বলে উল্লেখ করেন।


তিনি আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি নেতা-কর্মীকে বঙ্গবন্ধুর এই সততার আদর্শেই দেশকে এগিয়ে নেয়ার আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইসস্টিটিউট মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতিয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ইউনিয়ন কাউন্সিল ইলেকশন হচ্ছে। যার যার প্রতীক দিয়েই এই ইলেকশন। সেই ইলেকশনে খুব যে একটা তাদের (বিএনপি ও বেগম জিয়ার) গরজ তাওতো দেখি না। কেমন যেন একটা ভাসা ভাসা ভাব । ’
তিনি বলেন, ‘কেবল বক্তৃতার পর বক্তৃতাই দিয়ে যাচ্ছে- এটা হোল না, ওটা হলো না। ইলেকশনে তাদের কর্মকান্ডটা কোথায়? শুধু নালিশ করা। তো নালিশ করে কি হচ্ছে- নালিশ করে বালিশ ভাঙ্গা..আর মুখে জুতার বাড়ি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন- বিএনপি শুধু নালিশই করে যাচ্ছে। কোথাকার কোন ব্রিটিশ এমপি নিয়ে এসে তার কাছেই চলছে নালিশ। সে নিজেই তার দেশে অপকর্মের জন্য এক্সপেলড হয়ে গেছে, বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সাংবাদিকরা একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন যাকে নিয়ে আসলো আহ্লাদ করে তার অবস্থানটা কোথায়। একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে তিনি ৩ মাসের জন্য তিনি এক্সপেলড।
মানে রতনে রতর চেনে, কি জিনিষ আনতে হবে সেটা তারা বোঝে বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব সময় মনে করি আমারা জাতির পিতা শেখ মুজিবের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলব। কারো কাছে ভিক্ষা চেয়ে নয়। আমরা নিজেদের ঘাম নিজেদের শ্রম নিজেদের রক্ত দিয়ে যা কামাই করবো-সৎ পথে কামাই করে যদি ন্যুন ভাত খাই তা আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান। চুরি করে, ভিক্ষা করে বিরানী খাওয়ার চেয়ে অন্তত এই নীতিতে বিশ্বাস করি এবং আমি মনে করি, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী তাদেরর সেই চিন্তা থাকা উচিত। সেভাবেই দেশকেও এগিয়ে নিতে হবে এবং দেশের মানুষের মধ্যেও আত্মমর্যাদাবোধ গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আজ স্বাধীনতার সুফল বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছতে শুরু করেছে সেটা যেন অব্যাহত থাকে। ’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কারো কাছে হাত পেতে চলবে না। এখানে নীতির প্রশ্ন, যে আমরা ভিক্ষা করে চলবো না আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াবো। আর বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে তাদের বক্তব্য হলো- বাংলাদেশে যদি খাদ্য ঘাটতি থাকে, দেশ যদি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়। তবে, বিদেশ থেকে ভিক্ষা পাওয়া যায়,অনুদান পাওয়া যায়। ডোনেশন পাওয়া যায়। কিন্তুু, আমাদের নিয়তটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
জাতীয় সংসদের উপনেতা ও সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জন প্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, দলের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুপ্রীম কোট বারের নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, প্রেসিডিয়াম সদস্য গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বক্তৃতা করেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো বক্ততা করেন- কেন্দ্রিয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি,সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি এমপি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জ্বল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম প্রমুখ।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক অসীম কুমার উকিল সভা পরিচালনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। আমাদের উন্নয়নটা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের, তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলি আমরা একট নীতি নিয়ে চলি। দেশের উন্নয়ন করবো সেই মানসিকতা হ্রদয়ে ধারণ করে কর্মের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটিয়ে চলেছি।
তিনি বলেন, ক্ষমতা মানেই নিজের ভাগ্য গড়া না। ক্ষমতা আমাদের কাছে হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্য গড়ে তোলা, মানুষের কল্যাণ করা। যেটা জাতির পিতা আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছন।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্র্চের ভাষণের কথা যদি আমরা বলি বা অন্য সব ভাষনের একটাই মূল কথা, শোষিত বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। আমরা সেই শোষিত বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবো, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য স্থির করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পরে যেই ইতিহাস সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছিল ঘাতকচক্র আজকে সেই ইতিহাস মানুষের কাছে আসছে মানুষ জানতে পারছে। আমাদের দেশের মুক্তিযুদ্ধ-সেই আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস কিভাবে ২৩টা বছর বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম করে জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জাতিরজনকের নেতৃত্বে এদেশের মানুষকে এক্যবদ্ধ কর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল । তাই যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে দেশের মানুষ আস্থা ফিরে পায়। বিশ্বাস ফিরে পায়, দেশের মানুষের উন্নতি হয়।
আজকে যে বাজেট ৫ গুণ বৃদ্ধি করেছি, বেতন যে একশ ভাগের বেশি বৃদ্ধি করলাম সেটা আর কেউ পারেনি।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে বেগম জিয়ার বিরস বদনে অংশ গ্রহণ প্রশ্নে দলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের বক্তৃতায় প্রশ্ন তুললে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে মারার সময় মনে হয় তার মুখে নিশ্চই হয়েনার হাসি ছিল। যে সে মানুষ পোড়াচ্ছে, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করতে পারছে। এই মানুষ মারতে পারলেই তাঁর মুখে হাসি ফোটে মানুষের ভাল দেখলে হাসি ফোটে না। ’
তার হৃদয়ে পেয়ারো পাকিস্তান থাকায় এদেশের কোন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে বেগম জিয়ার মুখে হাসি থাকবে না, সেটাই স্বাভাবিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ পুড়িয়ে আন্দোলন, কোন আন্দোলন না এটা হত্যাকান্ড। কাজেই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে মানুষের সমর্থন আদায় করা যায় না। ’
প্রথানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। তাই নিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির যে স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়ন করাই আমাদের দায়িত্ব। আর কিছু না পারি সবার জন্য একটা করে টিনের ঘর করে দিয়ে হলেও আমরা একট মানুষের ঠিকানা করে দেব এবং আমরা তা দিচ্ছি।
তিনি বলেন, রোগে ধুঁকে ধুকে যরা মারা যেত তাদেরকে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি বিনা পয়সায় ওষুধ দিচ্ছি। ঘোষণা দিয়েছি-ডিজিটাল বাংলাদেশ করব, আজকে ডিজিটাল বাংলাাদেশ আমরা করেছি, আজকে সারা বাংলাদেশে ইন্টারনেট সার্ভিস এবং বাংলাদেশটাকে সেভাবে আমরা গড়ে তুলেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, এদেশের মানুষ যেন বেকার না থাকে সেজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে আমরা উন্মুক্ত করে দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছি। আজকে কেউ কাজ করতে চাইলে সে যেন কিছু করে খেতে পারে। সে সুযোগটা আমরা করে দিয়েছি। যারা হতদরিদ্র কাজ করতে পারে না তাদের আর্থিক সাহায্য আমরা দিয়ে যাচ্ছি। যেন কেউ বঞ্চিত না হয় ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হয়তো পূর্ণ চাহিদা মেটাতে পারবোনা, তবুও তাদের জীবনের ন্যূনতম চাহিদা টিুকু যেন আমরা মিটিয়ে দিতে পারি। ’
...তবে, সবাইকে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রের সম্পদকে ভাবতে হবে দেশের সম্পদ, জনগণের সম্পদ সেটাকে রক্ষা করেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। যে খোনে যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।
কাজেই এখানে যে কেউ খাবে কেউ খাবে না সেটা বাংলাদেশে হবে না। এটা জাতির পিতার নীতি ছিল না। আমরা সেই চিন্তা চেতনার থেকে কাজ করে যাচ্ছি,যার জন্য আজকে দেশ এগিয়ে যাচেছ।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুইতো বলে গেছেন-আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি। ২১ বছর যারা চেষ্ট করেছে তারাও ব্যর্থ,ইনশাল্লাহ আগামীতেও ব্যর্থ হবে। ’
বক্তৃতার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবু রহমান, জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধুর ভাষার দাবিতে আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬ দফা, ১১ দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯ গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের ২৪ বছরের সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধুর জেল-জুলম-নির্যাতন সহ্য করা আর বাঙালিদের বঞ্চনার ইতিহাসের খন্ড চিত্র তাঁর দীর্ঘ ৫০ মিনিটের বক্তৃতায় উঠে আসে।


মন্তব্য