kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


রিজেন্ট এয়ারের বহরে নতুন বোয়িং, চলবে মাসকাট

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম    

২৪ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৪৫



রিজেন্ট এয়ারের বহরে নতুন বোয়িং, চলবে মাসকাট

বেসরকারি শীর্ষ বিমান সংস্থা রিজেন্ট এয়ার বহরে যুক্ত হয়েছে আধুনিক ৭৩৭-৮০০ সিরিজের বোয়িং বিমান। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ইন্দোনেশিয়া থেকে নতুন বিমানটি ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বর্তমানে রিজেন্ট বহরে রয়েছে এর আগের সিরিজের দুটি ৭৩৭-৭০০ বিমান। নতুন বিমানটি বর্তমানে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত বিমানের চেয়ে সুপরিসর ও আধুনিক। নতুন বিমান যুক্ত হওয়ার পর রিজেন্ট বহরে বিমান সংখ্যা দাঁড়াবে পাঁচটি। এর মধ্যে তিনটি বোয়িং এবং দুটি ড্যাশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের চিফ অপারেটিং অফিসার আশীষ রায় চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, "নতুন বিমান দিয়েই আগামী ৭ এপ্রিল চালু হতে যাওয়া ওমানের রাজধানী মাসকাট রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম-মাসকাট রুটে সপ্তাহে চার দিন ফ্লাইট চালাবে রিজেন্ট। পরে সেটি প্রতিদিন চলবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশেও ফ্লাইট চালানো হবে। "

নতুন রুট চালুর আগ পর্যন্ত বোয়িং বিমানটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে সমন্বয় করে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত থাকবে জানিয়ে আশীষ রায় চৌধুরী বলেন, "এর ফলে রিজেন্টের যাত্রীরা আরো আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। অবশ্য এর আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যাবতীয় ছাড়পত্র ও অনুমোদন নেওয়া হবে। "
 
রিজেন্ট এয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, আমেরিকার জেকেস ইউকে থেকে ছয় বছরের জন্য বিমানটি লিজ নেওয়া হয়েছে। এর নতুন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ৭৩৭-৮০০ বিমানে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য আসনগুলোকে  বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। ১৮৩ আসন বিশিষ্ট এ বিমানে কোনো বিজনেস ক্লাস রাখা হয়নি। বিজনেস ক্লাসের পরিবর্তে ১৫টি প্রিমিয়াম ইকনোমি ক্লাস আসন রাখা হয়েছে, যেখানে দুই আসনের মাঝে ব্যবধান থাকবে বেশি এবং আরামদায়ক হবে। বাকি ১৬৮টি ইকনোমি আসন।

এ বিষয়ে আশীষ রায় চৌধুরী বলেন, "ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ সর্বপ্রথম এ ধরনের আসন চালু করেছিল। সেই ধারণা থেকেই আমরা এটি চালু করেছি। সবগুলো আসন সাজানো হয়েছে ৩-৩ বিন্যাসে। অর্থাৎ দুই পাশে তিনটি করে আসন, মাঝখানে চলাচলের পথ। "

জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে পৃথকভাবে মাসকাট রুটে যাত্রী পরিবহন করছে ওমান এয়ার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানও ঢাকা থেকে মাসকাটে যাত্রী পরিবহন করছে। এ দুই দেশের দুই রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার তুলনায় রিজেন্ট এয়ার কীভাবে প্রতিযোগিতা করবে জানতে চাইলে আশীষ রায় চৌধুরী বলেন, "ঢাকার সাথে চট্টগ্রামকে সংযোগ করে আমরা একসঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা করব। আর ভাড়াও অন্যদের চেয়ে অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক হবে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, "বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আর্ন্তজাতিক একাধিক রুটে বিশ্বমানের বিমান ও এয়ারলাইনস থাকলেও রিজেন্ট এয়ার সেগুলোর সঙ্গে ভালোভাবে প্রতিযোগিতা করে সফল হয়েছে। "  

রিজেন্ট এয়ার সূত্রে জানা গেছে, রিজেন্ট এয়ার ব্যাংকক রুটে সপ্তাহে চার দিন, সিঙ্গাপুর রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে প্রতিদিন এবং ঢাকা-কলকাতা রুটে প্রতিদিন, সব রুটেই বোয়িং ৭৩৭-৭০০ বিমানে যাত্রী পরিবহন করছে রিজেন্ট এয়ার। আর বাকি দুটি ড্যাশ বিমান দিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই মালয়েশিয়ায় প্রথম আর্ন্তজাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় হাবিব গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট এয়ার।
 

 


মন্তব্য