kalerkantho


স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ছিল একাত্তরে বাঙালির আত্মত্যাগের প্রেরণা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ২১:২২



স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ছিল একাত্তরে বাঙালির আত্মত্যাগের প্রেরণা

সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, একাত্তরে স্বাধীন দেশের জন্য বাঙালিরা যে লড়াই ও আত্মত্যাগ করেছিলেন তার প্রেরণা ও শক্তি ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।
তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ওই বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিকরা ইথারের মাধ্যমে রণাঙ্গণে যোদ্ধাদের পাশাপাশি দ্বিতীয় ফ্রন্টে যে যুদ্ধ করেছিল তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ’
মন্ত্রী আজ জাতীয় জাদুঘরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রদর্শনী কক্ষ উদ্বোধন উপলক্ষে কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি এম. আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আকতারী মমতাজ ও চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের ইতিহাস হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। আর এই মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অপরিসীম প্রভাব ছিল। ওই সময় বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শুনতে কোটি কোটি মুক্তিকামী মানুষ কান পেতে অপেক্ষা করতো।
তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠ বাণী ও শব্দ সৈনিকদের পরিবেশনা ওই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে, শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে। আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করতে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধারা কুন্ঠবোধ করেননি।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘কালুরঘাট থেকে এই বেতার কেন্দ্রের সূচনা, যেখান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করা হয়েছিল। এই ঘোষণা নিয়েও সত্যের অপলাপ হয়েছে, জিয়াউর রহমানকে ঘোষক হিসেবে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা হয়েছে। জিয়া মূলত:বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেছিলেন মাত্র। স্বাধীনতার রচয়িতা তিনি নন, স্বাধীনতা একটি অমরকাব্য, আর এই অমর কাব্যের রচয়িতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যারা এটিকে বিকৃত করে তারা ইতিহাসকে অস্বীকার করে, এরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। ’
মন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর যে ভাষণ, এটাই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা। বাঙালি জাতি যুদ্ধের জন্য আর কোন ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলো না। পাকিস্তান সরকারের কোন নির্দেশনা এই ভূখন্ডে কার্যকর ছিল না। এই ভূখন্ড মুলত: বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই চলতো। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের ঘোষণার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা অপেক্ষায় ছিল না।
আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রয়াসে চ্যানেল আই-এর সহায়তায় জাতীয় জাদুঘরের ৩৮ নং গ্যালারীতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই প্রদর্শনী কক্ষটি স্থাপন করা হয়েছে।


মন্তব্য