kalerkantho


'গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে চীন'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৬ ২১:৪১



'গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে চীন'

দেশের যে কোনো স্থানে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে চীন। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াং আজ এ কথা বলেছেন।
চীনা রাষ্ট্রদূত আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে কূটনীতিক সাংবাদিকদের বলেন, চীন এ ক্ষেত্রে অন্য যেকোন দেশকে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী। সহযোগিতা উন্মুক্ত। এটি এক্সক্লুসিভ নয়।
ডিপ্লোম্যাটিক কোরেসপন্ডেন্ট এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এর উদ্যোগে ‘ডিক্যাব টক’ শিরোনামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিক্যাব সভাপতি আঙ্গুর নাহার মোন্টি। ডিক্যাবের সাধারণ সম্পাদক পান্থ রহমানও এতে বক্তব্য রাখেন।
গভীর সমুদ্রের প্রয়োজনের উল্লেখ করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে অন্য কোন সমুদ্র বন্দর না থাকায় দেশটির রফতানি বাড়াতে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধার প্রয়োজন।
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে তার দেশের বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীনের অনেক ব্যবসায়ী গোষ্ঠি বাংলাদেশে এসেছে।
বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ঘাটতি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাণিজ্য স্থিতিশীল করতে দু’দেশের প্রয়োজন বাণিজ্য ভারসাম্যের। আমরা শুধু বাণিজ্য করে এই বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে পারি না। তিনি দু’দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরাসরি আরো বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীনের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশের এ মুহূর্তে প্রয়োজন উৎপাদন বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশ এই অঞ্চলে হতে পারে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ এবং চীনের প্রয়োজন বিবেচনা করে আরো বেশি করে রফতানি করতে পারে।
চীনা দূত সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশে সব ধরনের সুবিধা রয়েছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে। চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর থেকে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক বজায় রয়েছে। দুটি দেশ সহযোগিতার অংশীদারিত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি বাংলাদেশেকে চীনের উত্তম বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন চীন মেটাবে এবং উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণ করবে।
তিনি বলেন, আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বাংলাদেশে শ্রম শক্তির দক্ষতা উন্নয়নে চীন সহায়তা করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
তিনি বলেন, চীন-বাংলাদেশ সম্প্রতি অষ্টম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু এবং পূর্বাচলে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণে মতৈক্যে পৌঁছেছে।
চীন সরকার বাংলাদেশে একটি মেডিকেল ব্যাচ, দুর্যোগ ত্রাণ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি দেবে। বন্যা প্রতিরোধে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।
চীন গত বছরে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু স্কলারশীপ দিয়েছে। প্রায় সহস্রাধিক সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ ও লেখা-পড়ার জন্য চীনে গিয়েছে।


মন্তব্য