kalerkantho

26th march banner

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

'রাস্তাঘাটে টিজ শুনতে হয়, খারাপ ইঙ্গিত দেয়'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৬ ২১:৩২



'রাস্তাঘাটে টিজ শুনতে হয়, খারাপ ইঙ্গিত দেয়'

সোমবার বিশ্বজুড়ে পালন হচ্ছে জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণ বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবস।

বর্ণ, সংস্কৃতিসহ নানা কারণে কোন জাতিগোষ্ঠির সদস্যের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে গত ৫০ বছর যাবত এ দিবসটি পালন করছে জাতিসংঘ।

বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠি। যাদের অনেকেই শিক্ষা কিংবা জীবিকার তাগিদে নিজের বাসভূমি ছেড়ে শহরে বসবাস করছেন।

তাদের অনেকে বলছেন, দৈনন্দিন জীবনে তাদেরও নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হতে হয়।

ঢাকার একটি অভিজাত শপিং মলের একটি ফ্যাশন হাউজে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন তিথি মারিয়া। গত প্রায় ৩ বছর যাবত ঢাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরীও করছেন তিনি।

তিনি বলছেন, কর্মক্ষেত্রে তার তেমন সমস্যা না হলেও রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময় তাকে জাতিগত পরিচয়ের কারণে নিয়মিতই বৈষম্যের শিকার হতে হয়।

"রাস্তাঘাটে অনেক টিজ শুনতে হয়। অনেক ছেলে হয়তো বলে চাকমা-টাকমা। বিয়ে করতে হবে বলে খারাপ ইঙ্গিতও করে। এসব আসলেই অনেক কষ্ট লাগে। "

তিথির মতো আরো অনেক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠির সদস্য রয়েছেন যারা প্রায়সময়ই আশেপাশের মানুষের দ্বারা হেয় প্রতিপন্ন করার মতো মন্তব্যের শিকার হন।

"যেমন আমার নাক চ্যাপ্টা। এটি নিয়ে ইনসাল্ট করে। ভাষাগত যে টান থাকে, সেটি নিয়ে হাসিঠাট্টা করে। আমাদের ভাষাকে নিয়ে ঠাট্টা করে। "

বলেন গারো জনগোষ্ঠির একজন শিক্ষার্থী অলিক ম্রি। একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন তিনি।

তিনিসহ আরো কয়েকজন ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠির শিক্ষার্থী বাসা ভাড়া করে থাকেন ঢাকায়। তিনি বলছেন, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বই পুস্তকেও তাদের সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়কে হেয়ভাবে উপায়ে তুলে ধরা হয়।

"বইয়েও লেখা আছে, কোন জাতি সাপ খায়, ব্যঙ্গ খায় বা বিড়াল খায়? এভাবেও বৈষম্য তৈরি করা হয়। এসব প্রশ্ন বিসিএস পরিক্ষায়ও এসেছে।

বাংলাদেশে যে পার্বত্য নৃ গোষ্ঠির বাইরে অন্যান্য নৃ গোষ্ঠির সদস্যরাও রয়েছে সে বিষয়টি সম্পর্কে খুব একটা জানেনই না অনেকে। বিশেষ করে এই জাতিগোষ্ঠিগুলোর সংস্কৃতির প্রতি এবং নারীদের প্রতি অসম্মাজনক দৃষ্টিভঙ্গিও ব্যাপক।

সংগীতশিল্পী অ্যান্থনি রেমা বলেন, অনেকসময় বন্ধুবান্ধবরাও ভিন্ন জাতিগোষ্ঠির নারীদের প্রতি অসম্মানজনক ভাষায় মন্তব্য করে এবং মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা নিয়েও কটাক্ষ শুনতে হয়।

"এটা বোঝাতে কষ্ট হয় যে নারীদের আমরা সেরকম চোখে দেখিনা" বলেন অ্যান্থনি।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠিবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলছেন, মানুষের মধ্যে জাতিগত বৈষম্যের বিষয়ে যে সচেতনতা তৈরি হয়নি। এর দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপরও রয়েছে।

"যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি বাঙ্গালিদের বাইরে অন্য জাতিসত্তাদের সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি না দিচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সমস্যাটা থেকেই যাচ্ছে। "

অধ্যাপক মহসিন মনে করেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে জাতিগত বৈষম্য কি সেই ধারণা এবং অন্যের সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বজায় রাখার মতো সহনশীলতার যে অভাব রয়েছে,

সেটি দুর করার জন্য পাঠ্যপুস্তকেও বিষয়গুলো সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।


মন্তব্য