kalerkantho


পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিদেশি সাংবাদিকদের গুলির হুমকি দিয়েছিল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মার্চ, ২০১৬ ১৯:২৯



পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিদেশি সাংবাদিকদের গুলির হুমকি দিয়েছিল

পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর বন্দীদশা থেকে মুক্ত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহের চেষ্টার জন্য প্রায় ৩ ডজন বিদেশী সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল।
১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত গ্রেস লিকরটেন্সটেইন’র ‘সেনাবাহিনী পাকিস্তান থেকে ৩৫ জন বিদেশী সাংবাদিককে বহিস্কার করেছে’ শিরোনামে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ঢাকার উত্তরে হোটেল শেরাটনে অবস্থানকারী বিদেশী সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়েছিল যে, হোটেল থেকে বের হলে তাদের গুলি করা হবে। এখান থেকে তারা পাকিস্তানী বিদ্রোহীদের (মুক্তিযোদ্ধা) সমর্থক নিরস্ত্র মানুষের উপর সেনাবাহিনী গুলিবর্ষণের ঘটনা দেখতে পেয়েছিলেন।
করাচীগামী একটি প্লেনে তুলে দেয়ার আগে নিউইয়র্ক টাইমসের সংবাদদাতা সিডনী এইচ. এসেনবার্গসহ সব সাংবাদিককে তল্লাশি এবং তাদের নোট, ফিল্ম ও ফাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়।
ঢাকায় অবস্থানকালে এই বিদেশী সাংবাদিকদের কোন রকম সংবাদ প্রেরণ ও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি। সে সময় এসোসিয়েট প্রেস ও রয়টারের সাংবাদিকরা দৃশত: হোটেলে ছিলেন না। এছাড়া অন্যান্য সাংবাদিকদের হোটেলে জড়ো করা হয়। উক্ত দুই সংবাদ সংস্থার নিউইয়র্ক কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল যে, তারা তাদের সাংবাদিকদের কোন খবর পাচ্ছে না।
তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানে পাক সেনাবাহিনীর হত্যাকা-ের খবর ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন স্টার, নিউজউইক, দ্যা বাল্টিমোর সান এবং এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জাপান, ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশের পর পাকিস্তানী সরকার ৩৫ জন সাংবাদিককে বহিষ্কার করে।
এসেনবার্গের (পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্ত) রিপোর্টে বলা হয় যে,হোটেল চৌহদ্দির প্রহরার দায়িত্বে নিয়োজিত লে. কর্নেলের কাছে বিদেশী সাংবাদিকদের চলে যাওয়ার নির্দেশ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জবাব দিয়েছিলেন, ‘আমরা এর ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন বোধ করি না। এটা আমাদের দেশ। ’
আমাদের সামনে থেকে চলে যাওয়ার সময় বিদ্রুপভাবে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, আমরা চাই তোমরা চলে যাও। অন্যথায়, পরিস্থিতি তোমাদের জন্য খুবই ভয়ঙ্কর ও রক্তক্ষয়ী হবে।
টাইমসের ম্যানেজিং এডিটর এ এম রোসেনথাল এসেনবার্গ ও অন্যান্য সাংবাদিকের উপর এ ধরনের আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রেরিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় বলেন, ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক টাইমসের সংবাদদাতা সিডনী এসেনবার্গ ও অপর ৩০ জন সাংবাদিকের অন্যায় ও নজিরবিহীন বহিষ্কারে আমরা স্তম্ভিত। সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনে হোটেল ভবন থেকে বের হলে গুলির মুখে এসেনবার্গ ও অন্যদের ঢাকায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আটকে রাখার ঘটনা সব ধরনের আন্তর্জাতিক প্রেস ফ্রিডম’র নীতির পরিপন্থী। পরবর্তীতে বিদেশী সাংবাদিকদের কাছ থেকে সব ধরনের কাগজপত্র ও ফিল্ম কেড়ে নিয়ে তাদের বহিষ্কার করা হয়। এতে প্রতীয়মান যে, এটা সেনা কর্তৃপক্ষের ভুল হিসেবেই গণ্য হবে। আমরা বিশ্বাস করি আপনাদের সরকার এ অবস্থার সংশোধন করবে।
সাংবাদিকদের বহনকারী বিমানটি জ্বালানির জন্য শ্রীলংকার কলম্বোয় অবতরণ করলে সেখান থেকে টাইমস, ওয়াশিংটন স্টার, নিউজউইক ও দ্যা বাল্টিমোর সান’র সাংবাদিকরা টেলিফোনে রিপোর্ট পাঠাতে সক্ষম হন।
বিদেশী সাংবাদিকদের বহিষ্কারের পর পূর্ব পাকিস্তানের সংবাদ সংগ্রহের প্রধান সূত্র ছিল প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই)। পাকিস্তান সরকার তার আন্তর্জাতিক বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ এবং ভারতের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে অতিরঞ্জিত ও পাকিস্তানকে হেয় করার চেষ্টা হিসেবে অভিযোগ করেছিল। - বাসস।


মন্তব্য