kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সরকার সন্ত্রাসীদের জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে : সৈয়দ আশরাফ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ২৩:১৮



সরকার সন্ত্রাসীদের জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে : সৈয়দ আশরাফ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত সতর্ক ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বর্তমান সরকার সন্ত্রাসীদের জিরো টলারেন্স দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বের জন্যই রাষ্ট্র-ক্ষমতা আওয়ামী লীগের হাতে। শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসের ব্যাপ্তির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সরকার ক্রমাগত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
সৈয়দ আশরাফ আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক এক সেমিনার এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদের উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্ঠা এইচটি ইমামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিষ্টার এম আমিরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির। অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আসীম কুমার উকিল।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বুদ্ধিজীবী এবং সমাজের বিভিন্ন অংশ শেখ হাসিনার সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ, সেটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে সরকার বা শেখ হাসিনা সম্পর্কে সন্দেহ করা সঠিক হবে না বলে মনে করি। আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সন্ত্রাস তো শুধু আমাদের দেশে না। বিশ্বের প্রত্যেকটা দেশে সন্ত্রাস আছে।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, আজকে মধ্য প্রাচ্যের এই অবস্থা কেন? আজকে যে ইরাকের এবং সিরিয়ার দ্বিমুখিবস্থার মূল বিষয়টা হলো কে নেতৃত্ব দেবে। আমরা কেউ আজকে কিন্তু নিরাপদ নাই। আমরা যে সন্ত্রাসকে মোকাবেলা করছি, সারা বিশ্বকে আজ সেই সন্ত্রাসকে মোকাবেলা করতে হবে। সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসকে দমন করতে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ইরাকে যুদ্ধ চলছে, ইয়েমেনে যুদ্ধ চলছে। এটা আস্তে আস্তে বিস্তৃত হচ্ছে। আজকের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। বাংলাদেশে শুধু ধর্মের নামের সাম্প্রদায়িক তারাই না, তাদের পৃষ্ঠপোষক আছে। তারা চায় বাংলাদেশে একটা শিয়া-সুন্নী সংঘর্ষ হোক বা মুসলমান ও হিন্দুর সঙ্গে একটা বিভাজন হোক। এটা আমাদের সরকার কোনভাবে এলাউ করতে পারে না। এ বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ডিটারমাইন্ড।
তিনি বলেন, আমরা আলোচনা করি, কিন্তু সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে পদক্ষেপ নেয়া। যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, শেখ হাসিনা পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেবেন।
বিএনপি’র কাউন্সিলে আসা নেতাকর্মীরা দলটির বিকৃত নেতৃত্বের কাছে কি পাবেন? এমন প্রশ্ন রেখে বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, সারা দেশ থেকে যারা বিএনপির সম্মেলনে সমবেত হয়েছেন, তারা যেন নিজেদের একটা প্রশ্ন করেন, তা হল- তারা কি পাবেন এই নেতৃত্বের কাছ থেকে। বিকৃত-উন্মাদ রাজনীতির ধারক একজন দেশে বসে, অন্যজন বিদেশে বসে। এদের সম্মিলিত শক্তি দ্বারা বাংলার মানুষের কি হবে? তারা দেশকে কি দিবেন?
তিনি বলেন, ডাক্তার ভুল করলে একজন রোগী মারা যায় আর রাজনৈতিক নেতা ভুল করছে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যায়। রাজনীতি তো মানুষের জন্য, মানুষকে ধ্বংস করে, সভ্যতাকে ধ্বংস করে বিএনপি কি পাবে? ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি নেত্রী ব্যর্থ। তার কুপুত্রও ব্যার্থ। এই দুই জনের সম্মিলনে যে পার্টি একজন চেয়ারম্যান আর একজন কো চেয়ারম্যান। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান চক্রান্ত করার জন্য লন্ডন থেকে কয়েকবার পাকিস্তান এসেছে দাবী করে এইচ টি ইমাম বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে তিনি কয়েকবার লন্ডন থেকে পাকিস্তান এসেছে। তার কাজই হল বাংলাদেশে পাকিস্তানি ভাবধারা বাস্তবায়ন করা। কাজেই এদের কাছ থেকে কিছু আশা করা সম্ভব নয়।


মন্তব্য