kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

সচিত্র সতর্কবাণী ছাড়া সিগারেট বিক্রি করা যাবে না

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ২২:৩১



সচিত্র সতর্কবাণী ছাড়া সিগারেট বিক্রি করা যাবে না

বাংলাদেশে আজ থেকে সচিত্র সতর্কবাণী ছাড়া সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য বিক্রি বা বাজারজাত করা যাবে না। সরকারি এক গণবিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে।

তবে ঢাকার দোকান-বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, ছবি সম্বলিত কোন সিগারেট বা তামাকজাত পণ্য বাজারে নেই। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এমন কোন বার্তা তারা পাননি।

ঢাকায় বেশ কটি এলাকায় সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের দোকানের কয়েকজন বিক্রেতা জানালেন, তারা পোস্টার দেখেছেন কিন্তু এ বিষয়ে জানাতে কোন সরকারি বার্তা তাদের কাছে আসে নি অথবা কোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও আসেনি।

সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য সেবন করেন - এমন ক্রেতাদের কাছেও কোন তথ্য রয়েছে বলে মনে হলো না। কিন্তু বাংলাদেশে আজ থেকে সচিত্র সতর্কবাণী ছাড়া সিগারেট বিক্রি বা বাজারজাত করা বন্ধ হওয়ার কথা। শুধু সিগারেট নয় গুল, জর্দার মোড়কেও তা থাকতে হবে। এক বছর আগে এমনটাই সিদ্ধান্ত হয়েছিলো।

তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইনার ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলছেন, মোড়কে ছবি থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলছেন, “যেমন ধরুন ফুসফুসে ক্যান্সার তার ছবি, পায়ে পচনশীল রোগ বা গ্যাংগ্রীন - তার ছবি। এগুলোর ছবি প্যাকেটে থাকলে লোকে যতবার প্যাকেটটি বের করবে - ততবার এসব ভয়াবহ ছবি দেখবেন এবং তাতে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ক্রিয়া হবে। তারপর সে আস্তে আস্তে অভ্যাসটা ছেড়ে দেবেন। ”

মি চৌধুরী আরো বলছেন, গত এক বছর ধরে তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নিয়ম জানানো হচ্ছিলো। কিন্তু তারা নানা রকম কলাকৌশল, ছলচাতুরী এবং নানাভাবে সরকারকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে তারা এতদিন এটা করে নাই। ”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব মতে বাংলাদেশ প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যার ৪৩ শতাংশ তামাকজাত পণ্য ব্যাবহার করে। আর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে দেশে মাদকাসক্তদের মধ্য ৯৮ শতাংশের নেশার শুরু সিগারেট দিয়ে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, গত এক বছর ধরে সতর্কতামূলক ছবিগুলো মোড়কের উপরের অংশে থাকবে নাকি নিচের অংশে থাকবে সেনিয়েই ফাইল চালাচালি হয়েছে কোম্পানিগুলোর সাথে।

তবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর কর্পোরেট এ্যফেয়ার্স অংশের ব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আমিন বলছেন, “১৯ মার্চ থেকে যে পণ্য বের হবে সেগুলোর গায়ে এই নতুন প্যাকেট থাকতে হবে। বাজারে এটি দেখতে একটু সময় লাগবে। কারণ ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে আগে মজুদ করা পণ্য রয়ে গেছে। অন্তত তিন চার সপ্তাহ পর খুচরা বাজারে একশভাগ ক্ষেত্রে নতুন মোড়ক পাওয়া যাবে”

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব রুখসানা কাদের বলছেন, প্রস্ততকারক ও বিক্রেতাদের খবরটি পৌঁছানোর জন্য সব রকম চেষ্টাই করা হয়েছে। এই নিয়ম না মানলে রয়েছে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলছেন, “যদি কেউ আইন ভঙ্গ করে, তাহলে তার দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং ছয়মাসের কারাদণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। কাল থেকে সব ডিসিদের কাছে চিঠি দেয়া হবে মোবাইল কোর্ট করার জন্য। ”

বাংলাদেশে ১২ লাখ দোকান রয়েছে যারা সিগারেট বিক্রি করে। রয়েছে গুল, জর্দা, খৈনীর দোকান। বাংলাদেশে তামাকজাত পণ্যের যেমনি সহজলভ্যতা রয়েছে তেমনি সামাজিকভাবে এর ব্যবহার জনপ্রিয়।

গ্রামবাংলায় পান জর্দার ব্যবহার খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। ক্যাম্পেইনরা বলছেন, সচিত্র সতর্কবাণী দিয়েও এর ব্যবহার রোধ করতে হয়ত সময় লাগবে।


মন্তব্য