kalerkantho


শিশুদের জন্য সুপরিকল্পিত বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ১৯:২১



শিশুদের জন্য সুপরিকল্পিত বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ

শিশু বিশেষজ্ঞ, এ্যাক্টিভিস্ট এবং শিশু অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আগামী বাজেটে ভবিষ্যতের সুনাগরিক তৈরির লক্ষ্যে শিশুদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত বাজেট বরাদ্দের পরামর্শ দিয়েছেন।
জাতীয় শিশু দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে তারা এ সুপারিশ দেন।

আগামীকাল ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মদিন। প্রতিবছর এ দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শিশুদের অধিকার সুসংহত করতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনায় ‘শিশুদের নিয়ে বাজেট ভাবনা’ নামে একটি প্রতিবেদন অন্তর্ভূক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী গত জুন মাসে জাতীয় সংসদের বাজেট উপস্থাপনকালে বলেন, শিশুদের জন্য বাজেট প্রতিবেদন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সামাজিক খাতভুক্ত পাঁচটি মন্ত্রণালয়কে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, যা শিশুদের উন্নয়ন ও অধিকার সংরক্ষণে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল এডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর ( চাইল্ড প্রটেকশন এ্যান্ড এডুকেশন) সাবিরা সুলতানা নুপুর বলেন, “শিশুদের কল্যাণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। এ বাজেট বাস্তবায়নে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করতে হবে। ”
নুপুর বলেন, চলতি অর্থবছরে যে বাজেট করা হয়েছে তাতে যে পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের বাজেট উল্লেখ করা হয়েছে তাতে কোন কোন খাতে বাজেট বরাদ্দ করা হলো সেটি নির্ধারণ করা হয়নি। এই বাজেট বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলোর কোনো পরিকল্পনা ছিলো কী-না সেটিও আমরা জানিনা। যদি থেকেও থাকে সেটি কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে সে সম্পর্কেও আমরা জানি না। যে পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছিলো তা খরচ হয়েছে কী-না সে সম্পর্কিত কোন তথ্যও আমাদের জানা নেই।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ পরিচালিত শিশু বাজেট প্রতিবেদন রিভিউয়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশু অধিকার রক্ষায় শিশু শ্রম নিরসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু চলতি বাজেটে শ্রম মন্ত্রণালয়কে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। তিনি আগামী বাজেটে শ্রম মন্ত্রণালয়কে শিশু বাজেটের অন্তর্ভূক্ত করার সুপারিশ করেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রণয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত উপসচিব মো: জাফর সরকার বাসসকে বলেন, শিশু বাজেট প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য অর্থমন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে কিভাবে শিশু খাতে বাজেট বরাদ্দ ও ব্যবহার করা হবে সেটি নির্ধারন করার জন্য কাজ করছে। এর প্রেক্ষিতে আগামী অর্থবছরে শিশুদের জন্য একটি সুপরিকল্পিত বাজেট প্রণয়ন করা হবে।
সেভ দ্যা চিলড্রেন-এর সিভিল সোসাইটি ও গভর্নেন্স বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর শামসুল আলম চলতি অর্থবছরের জন্য শিশু বাজেট প্রতিবেদন প্রণয়নকে একটি ‘শুভ সূচনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি “স্ট্রেংদেনিং ক্যাপাসিটি ফর চাইল্ড ফোকাস বাজেটিং ইন বাংলাদেশ (এসসি-সিএফবি)” প্রকল্পের উল্লেখ করে বলেন, আগামী অর্থবছরে শিশু বাজেট প্রণয়নের জন্য একটি অপারেশনাল গাইডলাইন তৈরি করতে অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইউনিসেফ ও সেভ দ্যা চিলড্রেন-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এ প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।
শামসুল আলম বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল গাইডলাইন সম্পন্ন হলেই বাংলাদেশে শিশু বাজেটের সঠিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক মো: মোশাররফ হোসেন বলেন, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ১৮ কোটি টাকায় তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশু জাদুঘর নির্মাণ, শিশুদের জন্য আধুনিক লাইব্রেরি এবং মানসম্মত প্রকাশনা।
তিনি ভবিষ্যত শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিশু একাডেমির কেন্দ্রিয় ও জেলা কার্যালয়গুলোতে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ, মানসম্মত লাইব্রেরি এবং জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, প্রশিক্ষণের মানোনন্নয়নের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।


মন্তব্য