kalerkantho


'সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ১৮:১৮



'সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, সংস্কৃতি আমাদের শক্তি। এই সংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলনসহ অন্যান্য সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।
আজ বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল সোসাইটির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মূল চত্বরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত বসন্ত উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
বাঙালিদের সাথে পাকিস্তানীদের বিভিন্ন বৈষম্যের মধ্যে সাংস্কৃতিক বৈষম্য ছিল অন্যতম এ কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এ কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতির রক্ষা, চর্চা ও বিকাশের কথা বলতেন।
প্রথমবারের মত আয়োজিত এ উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ও নাট্য ব্যক্তিত্ব আলী যাকের।
উপাচার্য বলেন, বাঙালিরা সব সময় সংস্কৃতিমনস্ক। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুেদ্ধ সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। বর্তমানে সারা বিশ্বে একই দিনে ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করা হয়। এটি পৃথিবীর জন্য একটি দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সংস্কৃতিকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে। নিজেকে জানলে ও উপলব্ধি করলে সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে। সংস্কৃতি একটি দেশের চিন্তা চেতনা ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে। দেশের সংস্কৃতিকে আরও বেশি প্রকাশ করার উদ্যোগ নিতে হবে।
লিয়াকত আলী লাকী বলেন, বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল ও মূল্যবোধের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের বলেন, বাঙালী ঐতিহ্যের ঋতুভিত্তিক যেসব উৎসব আছে সেগুলোকে বেশী বেশী উদযাপন করতে হবে। বসন্ত উৎসবের মতো এ ধরনের সংস্কৃতি চর্চা আরও বেশী হলে নানা অপসংস্কৃতি থেকে বাঙালীজাতি মুক্ত হবে।
মোনালিসা উইমেন ক্লাবের সহযোগিতায় উদ্বোধন শেষে এক বর্ণাঢ্য বাসন্তী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জাঁকজমকপূর্ণ গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা ধরণের পরিবেশনার পাশাপাশি ছিল ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, গম্ভীরা, গীতিনাট্য, নকশী কাঁথার মাঠের মঞ্চায়ন, মঞ্চনাটক, পুঁথি পাঠ, আবৃত্তিসহ লোকজ সংস্কৃতির বেশকিছু পরিবেশনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন কিরণ চন্দ্র রায়, বাপ্পা মজুমদার অ্যান্ড ফ্রেন্ডস, জলের গান ব্যান্ড।


মন্তব্য