kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


১৯৭১ সালের সত্য তথ্য প্রদান করায় মার্কিন দূতকে ঢাকা থেকে ফিরিয়ে নেয়া হয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ২২:৩৮



১৯৭১ সালের সত্য তথ্য প্রদান করায় মার্কিন দূতকে ঢাকা থেকে ফিরিয়ে নেয়া হয়

আর্চার কেন্ট ব্লাড। ১৯৭১ সালে ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকান কনস্যুল জেনারেল। ঢাকায় তার চাকরির মেয়াদ ১৮ মাস অবশিষ্ট থাকতেই মার্কিন সরকার তাকে ফিরিয়ে নেয়। কারণ তিনি ১৯৭১ সালের সত্য ঘটনার বিভিন্ন তথ্য তৎকালীন মার্কিন সরকারকে পাঠিয়েছিলেন।
পেশাদার কূটনীতিক আর্চার কেন্ট ব্লাডের বাড়ি শিকাগো। ১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নির্দোষ বাঙালির বিরুদ্ধে পাক দখলদার বাহিনীর নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরে নিজ স্বাক্ষরে ব্লাড মার্কিন সরকারের কাছে একটি তারবার্তা পাঠান। তখন ঢাকায় ২০ সদস্যের মার্কিন কূটনৈতিক কোর-এর মধ্যে ব্লাড ছিলেন একজন সিনিয়র কর্মকর্তা।
তারবার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমাদের সরকার গণতন্ত্র দমনের নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের সরকার নির্যাতনের নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের সরকার তার নাগরিকদের রক্ষায় জোরপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। .....পেশাদার সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে আমরা সরকারের বর্তমান নীতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছি.....। ’
যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার তাৎক্ষণিকভাবে ব্লাডকে তার পদ থেকে সরিয়ে নেন। তিনি কখনও আর ওই পদে ফিরে আসেননি। তাকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্সোনেল অফিসে নিয়োগ দেয়া হয়।
ব্রিটিশ লেখক ক্রিস্টোফার হিচেন ‘দি ট্রায়াল অব হেনরি কিসিঞ্জার’ নামে তার বইতে এ ব্যাপারে লেখেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লেখা এই তারবার্তা সবচেয়ে প্রকাশ্য ও কঠোর ভাষার তারবার্তা। যা আগে কখনও দেখা যায়নি। ’
এর আগে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ এক তারবার্তায় ব্লাড লেখেন, ঢাকা এক ‘সুপরিকল্পিত গণহত্যার’ দিকে এগুচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ঢাকায় পাক সামরিক বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকা-ের আমরা আতঙ্কগ্রস্ত নীরব সাক্ষী। সামরিক বাহিনী আওয়ামী লীগ সমর্থকদের তালিকা তৈরি করে তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে এনে গুলি করে হত্যা করছে। এসব তালিকায় ছাত্রনেতাদের নামও রয়েছে। ’
শুধু তাই নয়, ‘পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর সহায়তায় অবাঙালি মুসলমানরা (বিহারী) গরীব লোকজনের বাড়িঘরে হামলা করছে এবং বাঙালি মুসলমান ও হিন্দুদের হত্যা করছে। ’
ব্লাড তার আরেকটি রিপোর্টে বাঙালির শীর্ষ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার সংগ্রাম ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জনগণের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের ভয়াবহ নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরেন।
ব্লাডের রিপোর্টের শিরোনাম ছিল ‘কনফ্লিক্টস ইন ইস্ট পাকিস্তান : ব্যাকগ্রাউন্ড এবং প্রসপেক্টস’। এই রিপোর্ট তৈরিতে তাকে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির তিনজন পন্ডিত ব্যক্তি সহায়তা করেন। তারা বলেন, এডওয়ার্ড এ মাসন, রবার্ট ডরফম্যান ও স্টিফেন এ মার্গলিন। রিপোর্টটি সম্পন্ন হওয়ার পর ব্লাড এটি মার্কিন সিনেটে পাঠান প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য।
সূত্র : ফজলুল কাদের কাদরির বাংলাদেশ জেনোসাইড এন্ড ওয়ার্ল্ড প্রেস : দি ওয়াশিংটন পোস্ট, উইকিপিডিয়া)


মন্তব্য