kalerkantho


সোনাইমুড়িতে হিজবুত তাওহিদ-গ্রামবাসী সংঘর্ষে দুজন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ১৮:০৭



সোনাইমুড়িতে হিজবুত তাওহিদ-গ্রামবাসী সংঘর্ষে দুজন নিহত

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার চাষিরহাট ইউনিয়নের পোড়করা গ্রামে হিজবুত তাওহিদের সদস্যদের সাথে স্থানীয় গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ২ হিজবুত তাওহিদ সদস্য নিহত হয়েছে। এ সময় গ্রামবাসীসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করলেও এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পোড়করা গ্রামের স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, এই গ্রামে একটি অংশে হিজবুত তাওহিদের কিছু লোক বসবাস করে আসছে দীঘদিন থেকে। কয়েক দিন পূর্বে তারা সেখানে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান করে জেয়াফতের ব্যবস্থা করে। ওই অনুষ্ঠানে তারা প্রচলিত ইসলামবিরোধী বক্তব্য রাখে এবং এখানে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তথা তাদের মতাবলম্বী মসজিদ নির্মাণ করার ঘোষণা দেয়। এ মসজিদ নির্মাণ বিষয়ে হিজবুত তাওহিদের সদস্যরা সোমবার সকালে নুরুল হক মেম্বারের বাড়িতে বৈঠক করে। বৈঠক করার খবর পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় তাদের বাড়িতে হানা দেয়। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর সাথে হিজবুত তাওহিদের সদস্যদের সংঘর্ষ শুরু হয়। গ্রামবাসীর হামলায় হিজবুত তাওহিদের সদস্য খোকন (২৪) ও জসিম (৩৬) নিহত হয়। এ সময়ে এ বাড়ির দুটি ঘরে গ্রামবাসীরা আগুন জ্বালিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময়ে গ্রামবাসীর সাথে হিজবুত তাওহিদের ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে আরও অন্তত অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে জেলা শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সেখানে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তারা ওই এলাকার বাড়িটি ঘিরে রেখেছে।

হিজবুত তাওহিদের সদস্য আলমগীর জানান, তারা বাড়িতে বসে একটি মসজিদ নির্মাণ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য বৈঠক করার সময় একদল গ্রামবাসী 'আল্লাহু আকবার' বলে এসে তাদের বাড়িতে হামলা চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে তাদের দুজনকে হত্যা করে অসংখ্য নরনারী আহত হয়। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুরজ্জামান জানান, তাদের রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন।


মন্তব্য