kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


গভর্নর আতিউরের অপসারণ দাবি লেলিনের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ১৩:২৫



গভর্নর আতিউরের অপসারণ দাবি লেলিনের

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশের টাকা লোপাটের ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানকে অপসারণের দাবি করলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন। লেনিন তার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, টাকা চুরি যাওয়া এবং তথ্য গোপন করে দায়িত্বহীন আচরণের জন্য অবিলম্বে আতিউরকে গভর্নরের পদ থেকে অপসারণ করা উচিত।

তিনি পুরো ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন এবং গভর্নর আতিউরকে ড. মুহম্মদ ইউনূসের চেলা আখ্যায়িত করে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তুলেছেন।

ফেসবুকে লিখিত লেনিনের বক্তব্য
নৈতিক দায় গভর্নর আতিউর রহমান এড়াতে পারেন না। পরম আশ্চর্যের বিষয় :
(১) এত বড় একটা কেলেঙ্কারির বিষয় মাসাধিক আগে জানা সত্ত্বেও আতিউর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অর্থমন্ত্রী ও ব্যাংকিং বিভাগের সচিবকে জানাননি কেন? সচিব স্বয়ং গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে ইতিমধ্যে দুইবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সভা হলেও সেখানে বিষয়টি না বলে গোপন করা হয়েছে। কার স্বার্থ রক্ষার জন্য?
(২) এত বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা জানা সত্ত্বেও আতিউর কিভাবে নির্লিপ্ত থেকে দিল্লি ভ্রমণ করতে পারেন? কেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করলেন না?
(৩) টাকা চুরি যাওয়া এবং তথ্য গোপন করে দায়িত্ব আচরণের জন্য অবিলম্বে আতিউরকে গভর্নরের পদ থেকে অপসারণ করা উচিত ।

পুরো ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন করে দোষী ব্যক্তিদের এবং সেই সঙ্গে ড. মুহম্মদ ইউনূসের চ্যালা আতিউরকে বিচারের সম্মুখীন করা উচিত। আতিউর ব্যাংকের স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে আতিউর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পুরস্কার ও পদক সংগ্রহের জন্য গভর্নর পদের অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অথবা বেসরকারি ব্যাংকের অর্থ ব্যয় করেছেন। তদন্ত করে এর সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। কী এমন সৃজনশীল প্রবন্ধ রচনা করে বাংলা সাহিত্যকে আতিউর সমৃদ্ধ করলেন যার জন্য এ বছর তাকে সামগ্রিক প্রবন্ধের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেওয়া হলো? এর পেছনেও না-কি অবৈধ প্রভাব কাজ করেছে?

ফলে লেখালেখি করেন এমন ক্ষমতাবান আমলারাও বাংলা একাডেমিকে তাদের একাধিক বই প্রকাশ/ অনুবাদ এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদানে বাধ্য করেন। অধস্তন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আতিউর ও বড় আমলা গংরা পুরস্কার/পদক এবং নাম কেনার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু করেছে অবিলম্বে তা বন্ধ না করলে জাতির কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। কোনো দলীয় অবস্থান থেকে নয় একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমি আমার অভিমত প্রকাশ করলাম। সংশ্লিষ্ট কারও সাথে আমার কোনো শত্রুতা বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব নেই। সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থে আমি জেনে বুঝে আমার অভিমত প্রকাশ করছি।

 


মন্তব্য