kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের পদত্যাগ দাবি করল বিএনপি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৫১



অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরের পদত্যাগ দাবি করল বিএনপি

নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ লোপাটের ঘটনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এ সময় তিনি নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশ থেকে কার্গো বিমানে মালামাল পরিবহনে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার কারণ মূলত ‘গণতন্ত্রহীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ অর্থের চুরি হয়ে যাওয়ার সংবাদটি গত সোমবার দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ফিলিপাইনে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৭৬ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৫৯২ কোটি টাকা। এদিকে এ ঘটনায় অভিযোগ উঠে, চীনভিত্তিক হ্যাকার গ্রুপ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে এ অর্থ সরিয়ে নিয়েছে ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সর্বশেষ বিশাল অঙ্কের অর্থ লোপাটের ঘটনায় দেশের আর্থিক খাতে ব্যাপক ধ্বস নামবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের অর্থনীতিবিদরা। দেশের অর্থনীতিকে রাবিশে পরিণত করার জন্য অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দায়ী। ৮০০ কোটি টাকা হ্যাক হয়ে যাওয়ার পরও তারা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন কোন নৈতিক অধিকারে? আমরা অবিলম্বে অর্থমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগ দাবি করছি।

‘সমস্ত ব্যাংক আজ ফোকলা হয়ে পড়েছে’-এ অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এসব জাল-জুয়া-চুরির ঘটনায় দেশের সাধারণ মানুষসহ ব্যবসায়ী সমাজ আজ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। মানুষ এখন আর ব্যাংকে টাকা রাখতে সাহস পাচ্ছে না। দেশে আজ ’৭৪-এর অবস্থা রিরাজ করছে। সে সময় যেভাবে ব্যাংক লুট ও ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটত তা এখনো অহরহ ঘটছে। বর্তমানে দেশের আর্থিক খাত ভেঙে পেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ ধ্বংস হতে আর বেশি সময় লাগবে না।

রিজভী আরো বলেন, জালিয়াতির এতবড় ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের প্রভাবশালী মহল ও ব্যাংক কর্মকর্তারা জড়িত বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্বীকার করাও হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ নেতৃবৃন্দ যারা গত তিন বছরে সরকারি কাজের বাইরে ঠুনকো অজুহাতে সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, হংকং, মালেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, দুবাই ভ্রমণ করেছেন তাঁদের পাসপোর্ট যাচাই করে অনুসন্ধান করলেই এই আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের রাঘব বোয়ালদের সংশ্রব বেরিয়ে আসবে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পণ্যবাহী কার্গো বিমান সরাসরি যুক্তরাজ্যে অবতরণে নিষেধাজ্ঞায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটি মনে করে, এ অবস্থা চলতে থাকলে রপ্তানিতে অশনি সংকেত দেখা দেবে এবং অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে দেশের গার্মেন্টসহ বিভিন্ন রপ্তানি খাত। দেশ বঞ্চিত হবে গার্মেন্ট খাত থেকে প্রাপ্ত বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে।

এ ব্যাপারে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, মূলত ভয়াবহ এক অবরোধের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর মূল কারণ দেশে গণতন্ত্রহীনতা, জবাবদিহিতার অভাব। যার কারণে দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরে চলছে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ মতো অরাজক পরিস্থিতি।


মন্তব্য