kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ওয়াশিংটন টাইমসে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে জয়ের নিবন্ধ প্রকাশিত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ মার্চ, ২০১৬ ২০:০০



ওয়াশিংটন টাইমসে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে জয়ের নিবন্ধ প্রকাশিত

যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা দৈনিক ওয়াশিংটন টাইমস পত্রিকায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে গণহত্যায় জড়িতদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি চিন্তা উদ্দীপক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত নিবন্ধটি হাজার পাঠক পড়েছেন।

এতে জয় লিখেছেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (আইসিটি) কয়েকবার দেশের বাইরের লোকদের সমালোচনার বিষয় হয়েছে। অন্যদিকে, এই অপরাধ ট্রাইব্যুনালগুলোর প্রতি দেশে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।
তিনি আরো লিখেছেন, ট্রাইব্যুনালের রায়গুলো ঘোষণার পর প্রায়ই জাতীয় ছুটির মতো বিবেচিত হয়েছে। লোকজন ট্রাইব্যুনালেরর বিচারের সমর্থনে দেশপ্রেমের গান গেয়ে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রাস্তায় নেমে এসেছে এবং শিশুদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধী ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর মৃত্যুদ- ঘোষণা করার পর চলতি মাসেও বাংলাদেশীরা বিচার প্রক্রিয়ার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এই দুই যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভের সংগ্রাম ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে অপহরণ, নির্যাতন ও ১৫ জন লোককে হত্যা এবং প্রায় ৪৫০ টি ঘরবাড়ি লুট করেছিল।
জয় বলেছেন, ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে যুদ্ধাপরাধী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদ- ঘোষণা করে রায় দেয়ার পর হাজার হাজার লোক ঢাকা মহানগরী এবং অন্যান্য নগরীতে দুইদিন ধরে রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করেছে। গত নভেম্বর মাসে যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করার পর অনুরূপভাবে জনগণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
তিনি লিখেছেন, জনগণের দেয়া সমর্থনের লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাজ সম্পূর্ণ করার এবং অন্য অপরাধীদের সাজা দেয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করা, যারা ১৯৭১ সালে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে এবং পাকিস্তানের গণহত্যায় সহযোগিতা দিয়েছে, যার ফলে ৩০ লাখ বাংলাদেশী শহীদ হয়েছিল।
গতবছর সারাদেশে ঢাকা ট্রিবিউন পরিচালিত জরীপে দেখা গেছে যে, ৭৯ শতাংশ জবাবদানকারী বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে চেয়েছেন। জরীপে আরো বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের বিরোধীকারীদের শক্ত অবস্থান খুলনা বিভাগেও ৬৪ শতাংশ জবাবদানকারী বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন।
নিঃসন্দেহে, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপকভাবে বিজয়ী (নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিদের চেয়ে ১৬ শতাংশের বেশী সমর্থন পেয়ে) হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল ট্রাইবুনাল পুনরায় চালু করার অঙ্গীকার।
তাহলে, বাংলাদেশের ভিতরে এবং দেশের বাইরে অবস্থানকারীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিষয়ে ভিন্নমতের কারণ কি?
জয় লিখেছেন, কারণ দেশের বাইরে যারা অবস্থান করেছেন তারা কখনই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণহত্যার পরিস্থিতিতে বসবাসের বিষয়টি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেন না। নির্যাতিত বা নিহত ব্যক্তির পুত্র বা কন্যা হওয়া এবং কয়েক দশক ধরে অপরাধীদেরকে বিচার এড়িয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখার অনুভূতি কি তারা তা বুঝতে পারেন না। - বাসস।


মন্তব্য