kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুন : শিক্ষামন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৬ ২০:৫১



গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুন : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিশ্ববিদ্যালয় তথা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিবিড়ভাবে লেখা-পড়া চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও তা প্রয়োগের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কাংখিত উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে শিক্ষক, লেখক ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নুরুল ইসলাম নাহিদ আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) মিলনায়তনে ‘ইউজিসি লেখক সংবর্ধনা ২০১৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।


ইউজিসি কর্তৃক প্রথম বারের মতো আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ৭১ জন লেখককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, “বই লেখার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য বেশি বেশি করে বই পড়তে হবে। বই লেখার জন্য আরও বেশি গবেষণা করতে হবে। কেননা গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হয়। ”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম। লেখকগণের পক্ষ থেকে অনুভুতি প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মোঃ আনোয়ারুল আজিম আরিফ ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত প্রফেসর ড. আয়শা বেগম। ইউজিসি’র রিসার্চ সাপোর্ট এন্ড পাবলিকেশন ডিভিশনের পরিচালক মোঃ সামছুল আলম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ।
শিক্ষামন্ত্রী বেশি বেশি বই পড়লে বেশি জানা যায় উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে বলেন, বই পড়ে জ্ঞানার্জনের কোনও বিকল্প নেই। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো অনেক পদ্ধতিগত পরিবর্তন এসেছে। তবে জ্ঞানার্জনের জন্য যে পরিমাণ বই প্রকাশ হওয়া দরকার সেরকম বই প্রকৃত পক্ষে প্রকাশ হচ্ছে না।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আর শিক্ষার্থীরা যেন তা অর্জন করতে পারে সেজন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ইউজিসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের গবেষণাকর্ম ও চিন্তা চেতনা প্রকাশ করার দায়িত্ব নিয়েছে, এটা জ্ঞান বিতরণের অনেক বড় ধাপ ও সাহসী উদ্যোগ।
নাহিদ শিক্ষাবিদ ও লেখকদেরকে উচ্চশিক্ষা স্তরে সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় আরও বেশি বেশি পাঠ্যপুস্তক রচনার আহবান জানিয়ে বলেন, একইসাথে বিদেশী ভাষায় লিখিত বইগুলো বাংলা ভাষায় অনুবাদ করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের মর্যাদা সম্পর্কে বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা সবার উপরে, এই দেশে শিক্ষকদের কখনও অমর্যাদা করা হবে না। শিক্ষকদের মাধ্যমেই নতুন প্রজন্ম দেশের হাল ধরে। তাই সেই শিক্ষকদের মর্যাদা সবার উপরে। শিক্ষার্থীদেরকে আরও নতুন শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শর্ত পূরণ না করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে আইন অনুযায়ি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্তা গ্রহণ করা হবে।
সভাপতির বক্তৃতায় ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন,‘এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ৭১ লেখককে সংবর্ধনা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমার এ ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো। ’
ইউজিসি চেয়ারম্যান লেখকদের ইউজিসি’র আর্থিক সহায়তায় আরও বেশি বই লেখার জন্য আহবান জানান।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ৭১ জন লেখকের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটিজ ফেস্টিভ্যাল-২০১৬ এ ‘বেস্ট পারফরমেন্স অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করা বাংলাদেশের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষার্থীকেও অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী অভিনন্দন জানান। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে তাদের অর্জনকৃত অ্যাওয়ার্ডগুলো ইউজিসির চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক সাবেক গভর্ণর, ড. মোহাম্মদ ফরাশউদ্দিন, প্রধান তথ্য কমিশনার প্রফেসর ড. গোলাম রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আবদুল মান্নান, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর নজরুল ইসলাম, ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লা ও প্রফেসর ড. মোঃ আখতার হোসেন, ইউজিসির সচিব ড. মোঃ খালেদসহ দেশের বিশ^বিদ্যালয়সমূহের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণ এবং কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


মন্তব্য