'বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত বিপ্লব শেখ-333323 | জাতীয় | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


'বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত বিপ্লব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সম্পন্ন হচ্ছে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ মার্চ, ২০১৬ ২২:০৪



'বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত বিপ্লব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সম্পন্ন হচ্ছে'

আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত বিপ্লব তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সম্পন্ন হচ্ছে।
তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা দানের মাধ্যমে রাজনৈতিক মুক্তি দান করলেও অর্থনৈতিক বিপ্লবকে সম্পন্ন করতে পারেননি।
তারা আরো বলেন, তার আগেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির যোগসাজসে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়।
তারা আজ বিকেলে নগরীরর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় এ কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এবং সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের পরিচালনায় জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য এবং শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপু মণি এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম রহমত উল্লাহ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নাণক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আরো কিছুদিন জীবীত থাকলে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিগনিত হতেন। তার নেতৃত্বের দূরদর্শিতা ও তীক্ষতা এদেশের মানুষ অনুভব করতে পেরেছিল।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ মানব সভ্যতার অমূল্য রতন। এ কৌশলী ভাষনের মাধ্যমে তিনি জাতিকে নির্দেশনা দান করেছিলেন।
আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের স্বাধীনতা যারা ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল তারাই স্বাধীনতা লাভের মাত্র সাড়ে তিন বছর পর বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিয়েছেন কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামকে সম্পন্ন করতে পারেন নি। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম সফল হচ্ছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ভাষনের মাধ্যমে একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন।
তিনি বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) দেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম যাতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে পরিচিত না হয় আবার স্বাধীনতার ঘোষনাও থাকে সেই কৌশলী বক্তব্য দান করেছিলেন।
বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯২ দিন আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে ক্ষমতা দখলে ব্যর্থ হয়ে ঘরে ফিরে যান। আর ঘরে ফিরে তিনি তার প্রিয় পাকিস্তানকে খুশি করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপিকে এক নেতা ফিনিক্স পাখি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কয়েকদিন পর বিএনপির ডাকে একটি কাউয়াও (কাক) আসবে না।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, শিমলা চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের যে ১৯৫ শীর্ষ সামরিক যুদ্ধাপরাধীর বিচার করার কথা ছিল তার মধ্যে জেনারেল জানজুয়াও ছিলেন। তার মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় শোকবার্তা পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার এ শোকবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে প্রমান হয় তিনি দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন না।
আওয়ামী লীগের এ জনসভা উপলক্ষে দুপুর থেকেই নগরীরর বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা এবং ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত নেতা-কর্মী আসতে থাকে। এ সময় নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই এবং স্বাধীনতার শত্রুরা হুশিয়ার, সাবধান নানা শ্লোগান দেয়। অনেক মিছিলে বাধ্যযন্ত্রও বাজাতে দেখা যায়।
জনসভা শুরুর আগেই জনসভা স্থল কানায় কানায় ভরে যায়। জনসভাস্থলে জায়গা না পেয়ে অনেককে বাংলা একাডেমী, দোয়েল চত্বর ও টিএসসি সামনে সড়কে অবস্থান করতে দেখা যায়। - বাসস।

মন্তব্য