kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সকলে মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুললে ‘এসিড সহিংসতা’ দূর করা সম্ভব

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৪০



সকলে মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুললে ‘এসিড সহিংসতা’ দূর করা সম্ভব

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সোচ্চার হওয়ার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গসহ সকলস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।
মেহের আফরোজ চুমকি আজ শনিবার রাজধানীর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এসিড সারভাইভারদের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহবান জানান।

এসিড সারভাইভার ফাউন্ডেশন (এএসএফ) এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
এএসএফ’র চেয়ারপার্সন ড. ইফতেখারুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ, ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল ইকোনমিক এন্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’র হেড অব প্রোগ্রাম ড্যানিয়েল লুৎফি ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম বক্তৃতা করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসিড হামলার ঘটনায় যেসব মামলার রায় হয়েছে কিন্তু রায় কার্যকর হয়নি, সেসব মামলা দ্রুত কার্যকর করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘দেশে আইন প্রণয়ন হয় কিন্তু আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন হয় না। ২০০২ সালে এসিড অপরাধ দমন এবং এসিড নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসির বিধান রেখে দু’টি আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু এই আইনে কারো ফাঁসির রায় এ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়নি। ’
তিনি বলেন, এসিড নির্যাতনের প্রধান শিকার নারীরা। তাই এসিড সহিংসতাসহ নারীর প্রতি সব ধরনের নির্যাতন রোধে সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিকভাবে নারীদের সহযোগিতা করে সমাজের স্বাভাবিক ¯্রােতে তাদের সামিল করতে হবে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারীর উন্নয়নে নানা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় জয়িতার সম্প্রসারিত নতুন ভবনে এসিড সারভাইভারদের কর্মসংস্থানের জন্য একটি স্টল বরাদ্দ দেয়ার কথাও তিনি ঘোষণা করেন।
শাহীন আনাম বলেন, নারী বা পুরুষ যেই এসিড আক্রান্ত হোক তারা অবশ্যই বর্বর ও নৃশংসতার শিকার হয়। সমাজে তারা নানা সংকটের সম্মুখীন হয়ে পড়ে। আক্রান্ত নারীরা মানসিক ও সামাজিকভাবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে দিনযাপন করেন। এসময় নারীদের মানসিক কাউন্সিল ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সহযোগিতা করতে সকলকে উদ্যোগী হতে হবে।
তিনি বলেন, এসিড আক্রান্ত নারীদের সরকারি, বেসরকারি উদ্যোগসহ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়াতে হবে।
জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রা শেষে প্রতিমন্ত্রী এসিড সারভাইভারদের নিজহাতে প্রস্তুতকৃত পণ্যসামগ্রী সম্বলিত প্রদর্শনীর স্টল ঘুরে দেখেন।
আলোচনা শেষে এ সময় এসিড সারভাইবারদের জন্য আগামী ৩ বছরের জন্য জাতীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।


মন্তব্য