জিয়া ছিলেন ঘোষণাপত্রের পাঠক : ওবায়দুল-332488 | জাতীয় | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


জিয়া ছিলেন ঘোষণাপত্রের পাঠক : ওবায়দুল কাদের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ মার্চ, ২০১৬ ১৮:১০



জিয়া ছিলেন ঘোষণাপত্রের পাঠক : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন ঘোষণাপত্রের পাঠক।
আজ শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ৭ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় জনসভা সফল করার লক্ষে ঢাকা মহনগরীর আশপাশের জেলার নেতাদের সঙ্গে এই যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ঘোষণা নিয়ে যে যাই বলুক, ঘোষণার ম্যান্ডেট কিন্তু ৭০ সালের নির্বাচনে জাতি বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছিল। এ অধিকার অন্য কারো ছিল না। পাঠক অনেকেই হতে পারেন। ঘোষক হতে পারেন না। জিয়াউর রহমান নিজেই বলেছিলেন, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করছি, আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সেই ঘোষণা হয় ২৫ মার্চে। আমরা ৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। সরকার গঠনের অধিকার কেবল আমাদের। এ কথাও বলে রাখি, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এবং নির্বাচিত দলের নেতা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা করা নিরঙ্কুশ অধিকার কেবল বঙ্গবন্ধুর ছিল।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, জিয়ার মতো ঘোষণা এম এ হান্নানও দিয়েছিলেন। তিনি ঘোষণার পাঠক ছিলেন, ঘোষক ছিলেন না। এই দাবি জিয়া করতে পারেন না। তিনি জীবিতাবস্থায় কোনোদিন এমন দাবি করেননি। তার মৃত্যুর পর তার দল বিএনপি এই দাবি করছে।

স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানের সাপ্তাহিক বিচিত্রা এবং দৈনিক বাংলার নিবন্ধের কথা উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পর বিচিত্রা এবং দৈনিক বাংলায় নিবন্ধ লিখেছিলেন। সেই নিবন্ধে তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষণে আমরা স্বাধীনতার গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে গিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্য, আজকে জিয়াউর রহমানের দল ৭ মার্চ পালন করে না।

'এক-এগারোর কুশীলবদের সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল'- বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, কেঁচো খুড়তে গেলে সাপ বেরিয়ে আসবে। তাদের ঘরের শত্রু বিভীষণ কে? এটা তাদের বের করতে হবে। এক-এগারো সম্পর্কে আমাদের আরও গবেষণা করতে হবে। সেদিন গ্রেপ্তার তো অনেকেই হয়েছিলেন। প্রথম গ্রেপ্তার হওয়ার কথা ছিল, সরকারি দলের নেতাদের। কিন্তু সেখানে প্রথমেই গ্রেপ্তার হয়েছেন শেখ হাসিনা। সে দিন তাকে কিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটা জাতি দেখেছে।

তিনি বলেন, সে সময়ে তাঁর সাথে কি দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, কোর্টে কিভাবে তাকে টানাহেঁচড়া করা হয়েছে- সে ইতিহাস কি এ দেশের মানুষ ভুলে গেছে? কাজেই আমাদের অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু দেশের স্বার্থে অনেককেই ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্বের সেরা 'ওয়ার্ল্ড গ্রেট স্পিচ' অর্ন্তভুক্ত ছিল না। দেরিতে হলেও বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটি 'ওয়াল্ড গ্রেট স্পিচ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত। সব ভাষণ কর্তৃত্ব করে না, নেতৃত্ব দেয় না। বাংলাদেশে একটি ভাষণ, যে ভাষণটি কর্তৃত্ব করেছিল এবং একটি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য উজ্জীবিত করেছিল। স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দিয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী, এনামুল হক শামীম ও জুনায়েদ আহমেদ পলক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য