kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হার্ডিঞ্জ ব্রিজ উদ্বোধনের ১০১ বছর আজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৫৩



হার্ডিঞ্জ ব্রিজ উদ্বোধনের ১০১ বছর আজ

পাবনার পাকশী পদ্মা নদীর ওপর স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবহনকারী ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ চালুর ১০১ বছর পূর্তি আজ শুক্রবার। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী রেল চালুর মাধ্যমে এ সেতু উদ্বোধন করা হয়।


শৈল্পিক কারুকাজের দৃষ্টিনন্দন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ বাংলাদেশের গৌরব আর অহঙ্কারের প্রতীক। বৃটিশ স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন ও এশিয়ার অন্যতম এই রেলওয়ে সেতুর ১০১ বছর পূর্তিতে উদ্বেলিত পাবনাবাসী।
পাকশী রেলওয়ে ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও ইতিহাস গবেষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এই ব্রিজ আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ, আমাদের গৌরব। পাকিস্তান আমলে ব্রিজটি মাঝেমধ্যে পরিস্কার করে ধোয়ামোছা করা হতো, রঙ করা হত। কিন্তু এখন সেগুলো দেখা যায় না। একারণে এর গুণগত মান নষ্ট হওয়া নিয়ে আমরা শঙ্কার মধ্যে আছি। ’
শতবর্ষী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় এই ব্রিজের ইতিহাস পড়েছি। আমি তো ভাবতেই পারছি না, সেই ব্রিজের একশ বছর পূর্তি হচ্ছে আর সেই সময় আমি এই ব্রিজের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছি। ভীষণ ভালো লাগছে, নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে। ’
পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম জানান, সেতু বিভাগ থেকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য করণীয় সবকিছুই নিয়মিত করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে ব্রিজের স্থায়িত্ব আরও কিভাবে বাড়ানো যায় সেভাবে রেল কর্তৃপক্ষ ভাবছে বলে জানান তিনি।
ঈশ্বরদী থেকে ৫ মাইল দক্ষিণে এবং সাঁড়াঘাট স্টেশন থেকে ৩-৪ মাইল পূর্ব-দক্ষিণে পাকশী নামক স্থানে তৎকালীন পাবনা ও নদীয়া জেলার মধ্যে বিস্তৃত পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত এই প্রসিদ্ধ রেলসেতুটি পুরোনো কাগজপত্রে ‘লোয়ার গ্যাঞ্জেস ব্রিজ, সাঁড়া’ নামেই পরিচিত হলেও পরে তা হার্ডিঞ্জ রেলসেতু হিসেবেই ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করে।
১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে ২৪ হাজার লোকবল দিয়ে পদ্মা নদীর উপর রেলসেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। আর ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ ৫০ হাজার ভারতীয় রুপী ব্যয়ে সেতুর নির্মাণ শেষ হয় ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে।
১ দশমিক ৮১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে রেলসেতুটির অর্ধেক অংশ পাবনার পাকশী অংশে এবং বাকি অংশ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা অংশের মধ্যে অবস্থিত। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী রেল চালুর মাধ্যমে এ সেতু উদ্বোধন করেন তৎকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল ভাইসরয় লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জ। তার নামেই এ সেতুর নামকরণ করা হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। সেতুটি নির্মাণের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন বৃটিশ প্রকৌশলী মি. রবার্ট গেইল্স।
এই রেলব্রিজের ভারবহন ক্ষমতা ১ হাজার ৯২৭ টন। সেতুটি খুলনা থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথকে সংযুক্ত করেছে। শৈল্পিক কারুকার্য খচিত ঐতিহ্যময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ১০১ বছর ধরে আকৃষ্ট ও মুগ্ধ করে চলেছে পর্যটকদের মন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সেতুটির ১২ নম্বর স্প্যানটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১১ মাস ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে সংস্কারের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হয়।


মন্তব্য