kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুই শিশু সন্তানের হত্যাকারী মা মাহফুজা গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৩১



দুই শিশু সন্তানের হত্যাকারী মা মাহফুজা গ্রেপ্তার

রাজধানীর বনশ্রীতে দুই শিশু সন্তানকে তাদের মা মাহফুজা মালেক জেসমিন হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। নিজের দুই সন্তান নুসরাত আমান অরণী ও আলভী আমানকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তাদের মা মাহফুজা মালেক জেসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, হত্যার রহস্য উন্মোচনে শিশু দুটির বাবা-মা ও খালাকে জামালপুরের বাড়ি থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তাদের সাবধানে ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে মা জেসমিন স্বীকার করেন, তিনি নিজেই তার দুই সন্তানকে হত্যা করেন। জেসমিন দুই সন্তানকে হত্যার বিস্তারিত বিবরণও দিয়েছেন।

জেসমিন প্রথমে তার মেয়ে নুসরাত আমানকে এবং পরে ছেলে আলভী আমানকে একই ওড়না দিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছেন বলে র‌্যাব সূত্র জানায়। হত্যার সময় মেয়ে জেগে ছিল, ছেলে ঘুমাচ্ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে জেসমিন জানান, তিনি তার ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রন্ত ছিলেন। ছেলে-মেয়েরা বড় হয়ে কিছুই করতে পারবে না বলে তার ধারণা ছিল।

সিদ্ধেশ্বরীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত আমান অরণী ও হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারির ছাত্র আলভী আমান সোমবার রাতে বনশ্রীর বাসায় মারা যায়।

প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজধানীর একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে তারা মারা যায় । গত মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ জানান, শিশু দুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। তাদের দেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এর আগে রাজধানীর সেই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার ও প্রধান বাবুর্চিসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। ওই রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়েই দুই শিশু মারা যায় বলে প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

মা মাহফুজা মালেক জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বিবাহবাষির্কী ছিল। তাদের ১৪তম বিবাহবাষির্কী উদ্যাপন উপলক্ষে সেদিন পরিবারের সকলে বনশ্রীস্থ ক্যান্ট চাইনিজ রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে যায় এবং খাওয়ার পর অবশিষ্ট খাবার সাথে করে নিয়ে বাসায় আসেন। পরে ২৯ ফেব্রুয়ারি অরণী এবং আলভী দুপুরে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পর রাতে রেস্টুরেন্ট হতে আনা অবশিষ্ট খাবার খেয়ে ঘুমাতে যায়।

প্রথমে মা মাহফুজা দাবি করেন, রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে বিষক্রিয়াজনিত কারণে তার সন্তানদের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী শিশু দুটিকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।

পরে শিশু দুটির লাশ দাফনের জন্য পিতা-মাতা তাদের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হন।
এ ঘটনায় শিশু দুটির গৃহশিক্ষিকা শিউলি আক্তার (২৮), খালু নজরুল ইসলাম এর ভাগনে শাহিন (২২), মেয়ের মার মামাতো ভাই মো. ওবায়দুর ইসলাম (৩৪), বাসার দারোয়ান পিন্টু মণ্ডল (৩২), অপর দারোয়ান ফেরদৌস (২৮) কে র‌্যাব কার্যালয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদের জন্য আনা হয় এবং জামালপুর জেলা হতে মৃত শিশুদের পিতা-মাতা ও খালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে মা বেগম মাহফুজা জানায়, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি মেয়ে অরণীর গৃহশিক্ষিকা চলে যাবার পর অরণী তার পিতা-মাতার বেডরুমে ঘুমাতে যায়। তখন বাসায় বৃদ্ধা দাদি, দুই ভাই-বোন ও মা মাহফুজা উপস্থিত ছিলেন। একই সময়ে আলভী আমান বেডরুমের বিছানাতেই ঘুমাচ্ছিল। মা মাহফুজাও ছেলের সাথে একই বিছানায় শুয়ে ছিল। অরণী মায়ের সাথে ঘুমানোর জন্য বিছানায় শোয়ার কিছু সময় পর মা মাহফুজা তার মেয়ে অরণীকে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে উভয়েই বিছানা থেকে মেঝেতে পড়ে যায়। কিছু সময় পর মেয়ের শরীর নিস্তেজ হয়ে গেলে তিনি তার ছোট ছেলে আলভীকে খাটের ওপর ঘুমন্ত অবস্থায় একইভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেন।


মন্তব্য