kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তায় সন্তানদের হত্যা করেন মা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ মার্চ, ২০১৬ ১৭:১১



ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তায় সন্তানদের হত্যা করেন মা

রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীতে ভাই-বোন অরণী (১৪) ও আলভীকে (৬) তাদের মা মাহফুজা মালেক জেসমিন নিজের ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তা থেকে নিজের দুই সন্তানকে খুন করেন মা- এমন দাবি র‌্যাবের।

রাজধানীর র‌্যাব সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, খাদ্যের বিষক্রিয়ায় নয়, মা নিজে তার দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। তারা গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে বনশ্রীর ব্লক-বি, ৪ নম্বর রোডের, ৯ নম্বর বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। নুসরাত আমান অরণী (১২) ভিকারুননিসা নূন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে এবং ছোট ভাই আলভী আমান (৬) হলি ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারিতে অধ্যয়নরত ছিল। ২৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বনশ্রীর নিজেদের বাসায় দুই ভাই-বোনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, রহস্য উদঘাটনের জন্য শিশু দুটির গৃহশিক্ষিকা শিউলি আক্তার (২৮), খালু নজরুল ইসলামের ভাগনে শাহিন (২২), মেয়ের মার মামাতো ভাই মো. ওবায়দুর ইসলাম (৩৪), বাসার দারোয়ান পিন্টু মণ্ডল (৩২), অপর দারোয়ান ফেরদৌসকে (২৮) জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। পরে দুই সন্তানের দাফন শেষে জামালপুর থেকে বাবা ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

তিনি বলেন, সন্তানদের স্কুলের পরীক্ষার ফলাফল এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় থাকতেন মা। ধারণা ছিল, তার সন্তানরা বড় হয়ে কিছুই করতে পারবে না। জিজ্ঞাসাবাদে মা বেগম মাহফুজা মালেক র‌্যাবকে এমনটি জানিয়েছেন।

জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ২৯ ফেব্রুয়ারি মেয়ে অরণীর গৃহশিক্ষিকা চলে যাবার পর বাবা-মার বেডরুমে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে সে ঘুমাতে যায়। মা মাহফুজাও ছেলের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাচ্ছিলেন। এ সময় বাসায় বৃদ্ধা দাদি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। অরণী বিছানায় শোয়ার কিছু সময় পর মা মাহফুজা তাকে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ধরেন। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তারা বিছানা থেকে মেঝেতে পড়ে যান। কিছু সময় পর মেয়ের শরীর নিস্তেজ হয়ে গেলে তিনি তার ছোট ছেলে আলভীকে খাটের ওপর ঘুমন্ত অবস্থায় একইভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি লাশ দুটির সামনে কিছু সময় ধরে কান্নাকাটি করেন। পরে খাবারের বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে বলে সকলকে অবহিত করেন।

সন্তানদের ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তা ছাড়া অন্যকোনো কারণ ছিল কি না- জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ বলেন, মাহফুজা মালেক ম্যানেজমেন্টের ওপর মাস্টার্স করেছেন। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত একটি কলেজে শিক্ষকতাও করেছেন তিনি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া নিয়ে তিনি সব সময় উদ্বিগ্ন থাকতেন। আমরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এখন মামলা হবে, আরও তদন্ত হবে। তদন্ত শেষে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।


মন্তব্য