kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একাত্তরের ৩ মার্চের জনসভাতেও বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার কথা বলেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৪১



একাত্তরের ৩ মার্চের জনসভাতেও বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার কথা বলেন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত একটি জনসভাতেও স্বাধীনতার কথা বলেছিলেন। সভাতে তিনি না থাকলেও বাঙ্গালির স্বাধীনতার আন্দোলন যেন না থেমে থাকে সেজন্য তিনি সবার প্রতি আহবান জানান।


বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমি মরে গেলেও ৭কোটি মানুষ দেখবে দেশ সত্যিকার স্বাধীন হয়েছে। তিনি বলেন, হয়তো এটাই আমার শেষ ভাষন। আমি যদি নাও থাকি আন্দোলন যেন থেমে না থাকে। বাঙ্গালির স্বাধীনতার আন্দোলন যাতে না থামে। ’
জনসভায় বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার কথা বলায় উদ্বেলিত মানুষ ‘বীর বাঙ্গালি অস্ত্র ধর . বাংলাদেশ স্বাধীন কর , গ্রামে গ্রামে দূর্গ গড় : মুক্তিবাহিনী গঠন কর শ্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে।
একাত্তরের ৩ মার্চ পল্টনে ছাত্রলীগ এবং শ্রমিকলীগের উদ্যোগে এক বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু এ আহবান জানান। পরদিন ৪ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাক এবং দৈনিক আজাদে সভার বিস্তারিত ছাপা হয় ।
নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বঙ্গবন্ধুকে বাংলার স্বাধীকার আন্দোলনের সর্বাধিনায়ক ঘোষনা করা হয় । জনসভায় বক্তব্য রাখেন তোফায়েল আহমেদ , শ্রমিক নেতা আবদুল মান্নান এবং ডাকসু নেতা আবদুল কুদ্দুস মাখন। অজ্ঞাত কারনে এদিন আ স ম আবদুর রব বত্তৃতা করেননি। তার বত্তৃতা দেয়ার পূর্বেই বঙ্গবন্ধু সভায় পৌছে যান।
ড. মোহান্মদ হান্নান তার‘ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ’ গ্রন্থে এ ব্যাপারে বিস্তারিত লিখেছেন। তিনি লিখেন বঙ্গবন্ধ’ এদিন ভাষনে অফিস আদালতে যাওয়া এবং কর খাজনা দেয়া বন্ধ রাখতে বলেন। রেডিও ,টেলিভিশন , সংবাদ পত্রে বিধি নিষেধ আরোপ করলে তিনি তা লঙঘন করার নির্দেশ দেন।
বঙ্গবন্ধু বলেন, দানবের সাথে লড়াইয়ে যে কোন পরিণতিকে মাথা পেতে বরণের জন্য আমরা প্রস্তুত। তেইশ বছর রক্ত দিয়ে এসেছি । প্রয়োজন বোধে বুকের রক্তে গঙ্গা বহাইয়া দেব। তবু সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বাংলার বীর শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করব না ।
এর আগে ৩ মার্চ রাজিৈতক পরিস্থিতি পর্যলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় পাকিস্থানের নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের নেতাদের একটি বৈঠক ডাকেন। আমন্ত্রিতদের তালিকায় উল্লেখযোগ্যরা ছিলেন পাকিস্তান আওয়ামীলীগের শেখ মুজিবুর রহমান , পাকিস্তান পিপলস পার্টি থেকে জুলফিকার আলী ভ’ট্রো , ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি থেকে খান আবদুল ওয়ালী খান ,পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কাইউম ) থেকে খান আবদুল কাইউম খান , মুসলিম লীগ কাউন্সিল থেকে মিয়া মোমতাজ দৌলানা প্রমুখ ।
বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান , প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার এই রাজনৈতিক সভাকে বন্দুকের নলের মুখে ‘ নিষ্ঠুর তামাশা ’ বলে অভিহিত করে তা প্রত্যাখান করেন।
এবারের বাংলা একাডেমি পুরষ্কার প্রাপ্ত লেখক , কবি এবং সাংবাদিক আবুল মোমেন ৩ মার্চের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা প্রসঙ্গে‘ বাসস ’কে বলেন, আগে থেকে পরিকল্পনার অংশ হিসাবে তিনি এদিনের জনসভাতেও স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি এনেছিলেন। যদিও জোড়ালো ভাবে তা উচ্চারিত হয়েছিল ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনে।
তিনি বলেন অনেক আগে থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়টি আলোচিত হলেও সত্তর দশকে এবং আগে সংগঠিত নানা আন্দোলন সংগ্রামে স্বাধীনতার প্রত্যাশাটি আরো বেশী জোড়ালো হয়ে উঠে। স্বাধীনতার প্রতি জনগনের প্রত্যাশা অনুধাবন এবং পাকিস্তানীদের প্রতিক্রিয়া এবং প্রস্তুতি পর্যবেক্ষন এর জন্য ৩ মর্চের জনসভায় বঙ্গবন্ধু স্বাধানতার প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন বলে মনে করেন আবুল মোমেন।
পল্টনের সভা থেকে এ দিন ৪ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন ৬টা থেকে ২টা পর্যন্ত হরতাল পালনের আহবান জানানো হয়। ৫ মার্চ বায়তুল মোকারম থেকে একটি লাঠি মিছিল বের করারও কর্মসূচি ঘোষিত হয় ।
এ দিকে ৩ মার্চ সারাদেশে পূর্ণ হরতাল শেষে ডাকা ,চট্রগ্রাম ,রংপুর ও সিলেটে গোলযোগ হয় । পরদিন দৈনিক আজাদের খবরে বলা হয়, এদিন রাজশাহীতেটেলিফোন অফিসের সামনে সামরিক বাহিনীর গুলিতে আহতদের স্থানীয় মুুসলীম কমার্শিয়াল ব্যাংকের বারান্দায় ফেলে রাখা হয়। এ সময় আহতদের কয়েকজন ব্যাংকের দেয়ালে তাদের দেহ থেকে নিঃসারিত রক্ত দিয়ে ‘বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ কথা লেখেন।


মন্তব্য