আঞ্চলিক শান্তির লক্ষ্যে ঢাকার-331024 | জাতীয় | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


আঞ্চলিক শান্তির লক্ষ্যে ঢাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ মার্চ, ২০১৬ ২৩:৩৯



আঞ্চলিক শান্তির লক্ষ্যে ঢাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী সার্ক অঞ্চলে শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, সকল পক্ষের সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে আমরা ২১ শতকে একটি শান্তিপূর্ণ, সহযোগিতামূলক ও অধিকতর সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অন্যথায়, আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে দায়ী থাকবো।
আজ সন্ধ্যায় নয়াদিল্লী থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাঠানো বার্তায় বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী নয়াদিল্লীতে নিরপেক্ষ থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) আয়োজিত সংলাপ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট চন্দ্রিকা বন্দরনায়েকে কুমারাতুঙ্গা, আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, সিসিলি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট স্যার জেমস ম্যানচ্যাম, ওআরএফ পরিচালক সঞ্জয় যোশী, ফেলো অশোক মালিক তিনদিনব্যাপী এ সংলাপের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তৃতা করেন।
ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সাবেক রাষ্ট্রদূতগণ এবং উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, আমাদের এ অঞ্চল ক্রমান্বয়ে অভিন্ন স্বার্থ ও লক্ষ্য নিয়ে একটি পরস্পর নির্ভরশীল কমিউনিটিতে পরিণত হচ্ছে বলে আমাদেরকে পারস্পরিক কল্যাণ ও সম্মত সমাধান লাভের চেতনা নিয়ে আমাদের অগ্রাধিকার হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির বিষয়টিকে গ্রহন করতে হবে।
তিনি বলেন, এই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে আমরা কার্যকরভাবে সম্মিলিতভাবে শক্তি আহরণ, সহযোগিতার জন্য গণসমর্থন সুদৃঢ়করণ, আমাদের অঞ্চলের পূর্ণ পুনর্জাগরণ ঘটাতে পারবো। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর এগুলো নির্ভরশীল।
মাহমুদ আলী বলেন, কেউ কেউ হয়তো হতাশাবাদী হবেন এই বিশ্বাসে যে, সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থার হুমকি, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাসের চ্যালেঞ্জগুলো আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ছায়াপাত করতে পারে।
তিনি বলেন, শান্তি ও সমৃদ্ধিও লক্ষ্যে আমাদের যাত্রাপথ নিঃসন্দেহে নিরাপত্তা ইস্যুর বিবেচনায় বাধাগ্রস্থ হয়। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থা, ধর্মের সঙ্কীর্ণ ব্যাখ্যা, সাম্প্রদায়িক পরিচয় সারা বিশ্ব জুড়ে মানবতা ক্ষুন্ন এবং লাখ লাখ লোককে নির্মূল করছে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং অঞ্চলের অবিশ্বাসের এই অভিশাপকে আমরা আমাদের দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তির জন্য বিঘœ সৃষ্টি করতে দিতে পারি না।
তিনি আরো বলেন, এ অঞ্চলের এবং বিশ্বের অপরাপর অংশের জন্যও একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দক্ষিণ এশিয়া জরুরি।
অঞ্চলের পানি সম্পদের গুরুত্ব উল্লেখ করে মাহমুদ আলী বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ব্লু ইকোনমি হচ্ছে দুটি খাত যেখানে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে আমাদের অভিন্ন পানি সম্পদকে কাজে লাগাতে চাই। এ লক্ষ্যে আমরা অববাহিকা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। সড়ক, রেল, বিমান যোগাযোগ, অভ্যন্তরীন পানি ও উপকুলীয় নৌ যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি যোগাযোগ এবং ডিজিটাল যোগাযোগ বিশেভাবে উল্লেখযোগ্য।
তিনি বলেন, আমরা যে কোন নতুন উদ্যোগকেও স্বাগত জানাবো। কার্যতঃ বাংলাদেশ ও ভারত এ ক্ষেত্রে নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি মডেল স্থাপন করতে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, এই লক্ষ্য অর্জনে যোগাযোগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
মাহমুদ আলী ৩ দিনের সফরে মঙ্গলবার নয়াদিল্লী গেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। - বাসস।

 

মন্তব্য