• ই-পেপার

ঘুমানোর অভিযোগে সংসদের অধিবেশন কক্ষে সাহারার আসন পরিবর্তন

দক্ষিণ কোরিয়া ও আরব আমিরাতের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শেষ পর্যায়ে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাসস
দক্ষিণ কোরিয়া ও আরব আমিরাতের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শেষ পর্যায়ে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, মুক্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ জোরালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা খুব শিগগির শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণকে সামনে রেখে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের কৌশলের অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরো চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য নিয়েও সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং বিদ্যমান বাজারে প্রবেশাধিকার অব্যাহত রাখতে এফটিএসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সইকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

মুক্তাদির বলেন, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরের জন্য আগামী সংসদ অধিবেশনে উপত্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরো জোরদার হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এসব চুক্তি রপ্তানি গন্তব্য বহুমুখীকরণে সহায়তা করবে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াবে এবং এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের রূপান্তর আরো সহজ করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের বাণিজ্য কূটনীতি এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনা রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

বিমসটেক সচিবালয়ে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিটের কার্যালয়ের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিমসটেক সচিবালয়ে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিটের কার্যালয়ের উদ্বোধন
সংগৃহীত ছবি

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) সচিবালয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিটের (পিএমইউ) কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। গত সোমবার (২০ জুলাই) বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মানি পাণ্ডে এ কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন।

রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিমসটেক।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সচিবালয়ে পিএমইউ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংস্থাটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক (ডব্লিউবি) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহায়তায় ‘সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ফর প্যান্ডেমিক প্রিভেনশন, প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স উইথ ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ’ প্রকল্পের আওতায় এই প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এফএও, বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিমসটেকভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মানি পাণ্ডে বলেন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিট প্রতিষ্ঠার ফলে সচিবালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা আরো জোরদার হবে। এই ইউনিট আঞ্চলিক বিভিন্ন উদ্যোগের পরিকল্পনা, সমন্বয়, বাস্তবায়ন, তদারকি ও অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার, বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্রগুলো, বিশ্বব্যাংক, এফএও এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পিএমইউ বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাবিষয়ক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচিবালয়কে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি জটিল আঞ্চলিক কর্মসূচি ও উন্নয়ন অংশীদারত্ব পরিচালনা এবং বাস্তবায়নে সচিবালয়ের সামগ্রিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি করবে।

ইসির নতুন জনসংযোগ পরিচালক আব্দুল মমিন সরকার

অনলাইন ডেস্ক
ইসির নতুন জনসংযোগ পরিচালক আব্দুল মমিন সরকার
মো. আব্দুল মমিন সরকার।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) রুহুল আমিন মল্লিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির নতুন জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইসির এনআইডি অনুবিভাগের উপসচিব মো. আব্দুল মমিন সরকার।

রবিবার (২৬ জুলাই) ইসির সহকারী সচিব (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোহাম্মদ শাহিদুর রহমানের সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এতে বলা হয়েছে, ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুবিভাগের উপসচিব মো. আব্দুল মমিন সরকারকে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক (পিআর) হিসেবে বদলি করা হলো। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) রুহুল আমিন মল্লিককে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে উপসচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

বাসস
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সময়ের চাহিদানুযায়ী আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবেলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমসহ বহুমাত্রিক ও জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ফলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সহনশীলতাকে বিবেচনায় রেখে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মডেল অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারপ্রধান এবং একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মূল শক্তি শুধু সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত।’

তিনি বলেন, ‘সে লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য যেকোনো সংকট, আগ্রাসন বা দুর্যোগ মোকাবেলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল এবং আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।’

উপস্থিত জেনারেলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরন বদলেছে। নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। যেখানে গুরুত্ব পাবে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ।’

তিনি আরো বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়সমূহ হলো সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলে বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যে আমি একধরনের গৌরববোধ করি। আবার সেনাবাহিনীর কোনো নেতিবাচক খবরে অস্বস্তি অনুভব করি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ এবং স্মৃতিময় স্থান। আপনারা জানেন, ঘরে-বাইরে সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলি কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং বিধিবিধান সম্পর্কেও আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই।’

তিনি বলেন, ‘সেনা পরিবেশে অনুসৃত শৃঙ্খলা এবং নিয়মতান্ত্রিক অনুশাসনের মধ্যেই আমি আমার মা-বাবা এবং একমাত্র ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন। নিঃসন্দেহে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এটি একটি গৌরবময় অধ্যায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পরপরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট এবং সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির একধরনের অপপ্রয়াস লক্ষণীয় ছিল। সেই অস্থির সময়েও সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারির এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন। পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান প্রায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ প্রকল্প শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

এ ছাড়া পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১২০০ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে নিয়োজিত থেকে শাহাদাতবরণকারী ২১৭ জন বীর সেনা সদস্যের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা, পেশাদারি ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে বিশেষ গৌরব ও মর্যাদা অর্জন করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান এবং মালিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্মান সমুন্নত রেখেছেন। তবে এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে আত্মোৎসর্গের ইতিহাস।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে সংঘটিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্য শহীদ হন। আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, গণতন্ত্রকামী জনগণ সেটি ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তা ছিল মূলত গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের প্রতি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এ ছাড়াও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকটময় পরিস্থিতিতেও তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান এবং জুলাই গণজাগরণ ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলাসহ যেকোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনী সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের পেশাদারি হারিয়েছিল। সেনাবাহিনীকেও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেনাবাহিনীকে পুনরায় নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং পেশাদারি দিয়ে জনগণের আস্থায় থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি।

তিনি বলেন, পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা এবং ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্স অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।

ফিজিক্যাল ফিটনেস তথা নিয়মিত শারীরিক কসরতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রয়াত মার্কিন জেনারেল ‘নরম্যান সোয়ার্জকফ’-এর একটি মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জেনারেল এইচ নরম্যান সোয়ার্জকফ বলেছিলেন ‘দ্যা মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্যা লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়্যার।’ তাই সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপসের সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তাগণ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, গৌরব ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করবেন। বর্তমান সরকারের দর্শন হচ্ছে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

ঘুমানোর অভিযোগে সংসদের অধিবেশন কক্ষে সাহারার আসন পরিবর্তন | কালের কণ্ঠ