kalerkantho


দেশীয় ব্যান্ড সঙ্গীতের লালনক্ষেত্র শেরাটনের চাম্বেলী হাউজের নাম বদলে যাবে!

এইচ এম বাবু    

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৩২



দেশীয় ব্যান্ড সঙ্গীতের লালনক্ষেত্র শেরাটনের চাম্বেলী হাউজের নাম বদলে যাবে!

ছবিটা ২০১০-এ সৈয়দ মানিক ভাই তুলে দিয়েছিলেন

ঠিক পেছনে চাম্বেলী হাউজ। শেরাটনের এই বড় রুমটিকে বাংলাদেশের ব্যান্ডের লালনক্ষেত্র বলা যেতে পারে। কারণ ১৯৬৫ থেকে ৮০ পর্যন্ত এখানেই তৎকালীন ব্যান্ডগুলো নিজেদের এক্সপেরিমেন্ট, প্রাকটিস ও অর্থ উপার্জনের সুযোগ পেত। যা ছিল অত্যন্ত দুরুহ, চ্যালেঞ্জিং, কষ্টসাধ্য আবার বহুল প্রত্যাশিত ব্যাপারও। 

১৯৬৫তে এখানে পুরান ঢাকার অভিজাত সেন্ট গ্রেগরি স্কুলের ছাত্রদের ব্যান্ড ‘আই ওলা ইটস্’ এদেশে প্রথম ব্যান্ড শো করে। যার ভোকাল ছিলেন ওয়ারীর ছেলে বর্তমানে পাকিস্তানের সুফি ব্যান্ডের অগ্রদূত আলমগীর। তারাই এদেশে প্রথম টিকিট কনসার্ট করে ৬৭তে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন, রমনাতে।

এরপর ৬৮তে নারায়ণগঞ্জের ব্যান্ড ব-কলম ও জিংগা শিল্পী গোষ্ঠি। ৬৮ তে রাম্বলিং স্টোন- প্রয়াত চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল ছিলেন যার ভোকাল।

৭২-৮৫তে ব্লু শার্ক, টাইম এগোমোশন, আগলি ফেসেস, সুরেলা (সোলস্), ফিয়াস্কো (মাকসুদ ভোকাল), উচ্চারণ (আযম খান), চিলড্রেন অফ গড (শাফিন, হামিন)। 

এরপর সবার চোখ পড়ে যায় বিটিভির দিকে।

একটা সময় বিটিভি মানের দিক দিয়ে হারিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্বেলী রুম তার জৌলুস, যৌবন ধরে রেখেছিল এবং আছে। এখনও পুরোধাদের কাছে চাম্বেলী রুম মানে অভিজাত, জমকালো, ক্লাসিক একটা ব্যাপার।

ঢাকার ছেলে গায়ক আলমগীর   

গত ৫০ বছরে শেরাটনের মালিক পাল্টেছে কয়েক দফায়। ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে ১৯৮২তে শেরাটন। ২০০৯ এ রূপসী বাংলা। এখন নতুন সাজে নাম পাল্টে ফের কন্টিনেন্টাল হতে যাচ্ছে। হোটলের নাম যতই পাল্টাক না কেন, তাতে যায় আসে না আমার। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, চাম্বেলী রুমের নাম পাল্টিয়ে শিরিন্স রুম করা হচ্ছে! 

খুব কষ্ট লেগেছে মনে, যে রুমটিকে ঘিরে বাংলাদেশের ব্যান্ড জন্মের ইতিহাস, ইতিকথা, চারণক্ষেত্র... শুধু ব্যবসায়িক স্ট্রাটেজির কারণে এর নাম পাল্টানো হবে! আমাদের সংস্কৃতির একটি নিদর্শনকে এভাবে অনাদরে বিস্মৃতির ভাগাড়ে নিক্ষেপ করা! 

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে বললো- প্লিজ, সরে আসুন এ আত্মঘাতী ও হটকারি নাম পাল্টানোর সংস্কৃতি থেকে।

লেখক : সংবাদকর্মী



মন্তব্য