kalerkantho


ওষুধের ভেতর ছত্রাক পড়ে গেছে, তবুও হচ্ছে বিক্রি! (ভিডিও)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ আগস্ট, ২০১৮ ১৭:৪৫



ওষুধের ভেতর ছত্রাক পড়ে গেছে, তবুও হচ্ছে বিক্রি! (ভিডিও)

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের একজন চিকিৎসক একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ জব্দে পরচালিত অভিযানের একটি অংশ দেখানো হয়েছে। ওই ভিডিওতে একটি তরল ওষুধ দেখা যাচ্ছে। প্যাকেটের ভেতরে ছত্রাক পড়ে গেছে। এগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। ভিডিওটি মাসখানেক আগে পোস্ট করেছেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'এই ইঞ্জেকশন রক্তনালীতে ইনফিউশন দেবার কিছুক্ষণের মধ্যেই এম্বোলিজম হয়ে রোগী মারা যাবে। ক্ষতি হবে রোগীর। আর দোষ হবে আমার বা সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের। আমার কোনো বক্তব্য নেয়া ছাড়াই আমাকে ভিলেন বানানো হবে মিডিয়ায়। আসল ভিলেনরা কিন্তু দিব্যি ব্যাবসা করে ফেলেছে। আরেকটা দল মিডিয়ার রিপোর্ট নিয়ে ব্যাবসা করে ইনকাম কিংবা ফ্যান ফলোয়ার বাড়িয়ে নেবে। শাহবাগ থেকে কেনা কয়েকটা ইঞ্জেকশনে আজ এই রকম ফাংগাস(?) পাই। এরপরেই এই ভিডিওটা করললাম'।

ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারীদের কারবার আজকের নয়। বহুদিন ধরেই এদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় সরকার। ধরা হয়, তারা ছাড়া পায় এবং আবরো একই কাজে জড়িয়ে পড়ে। আবার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মানেই জীবনের জন্যে হুমকি। এসব ওষুধ দেদারসে বিক্রি হয় দেশের বিভিন্ন ফার্মেসিতে। সেখানেও অভিযান চলে। তবুও এদের বিবেকে নাড়া পড়ে না। 

এরা আসলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মাঝে মাঝে যে অভিযান চালানো হয় তা যথেষ্ট নয়। দরকার নিয়মিত অভিযান। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ না বুঝেই কিনে আনেন রোগী। অসচেতনভাবে এগুলো ব্যবহারে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময়ই চিকিৎসকরা রোগীর আনা ওষুধ প্রয়োগ করেন। খেয়াল না করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দোষ হয় চিকিৎসকদের। এই ভিডিওর মাধ্যমে এটাই বোঝাতে চেয়েছেন ওই চিকিৎসক। 

কিন্তু ডাক্তারদের দিকেও রয়েছে অভিযোগের তীর। অতীতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীসহ সারাদেশেই অনুমোদনহীন ওষুধের নাম প্রেসক্রিপশনে লিখছেন এক শ্রেণির চিকিৎসক। ওইসব কম্পানির কমিশনের লোভে তারা রোগীদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন অনায়াসে। রাজধানীর শাহবাগের ওষুধের দোকান গুলোতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ জব্দ করে র‌্যাব। তবে লোকবল সংকটের কারণে ওষুধ বিক্রি তদারকি করতে পারছে না ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

এর আগে ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশের অনেক নামকরা হাসপাতাল ও ফার্মেসিকে জরিমানা করেও ভেজাল এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না। এদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ওষুধের ভেজাল মোকাবেলায় আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়েছি। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ায় আমরা রাজধানীর অনেক নামকরা হাসপাতাল ও ফার্মেসিকে জরিমানা করেছি। এরপরও হাসপাতালগুলোতে ভেজাল ওষুধ রাখা হচ্ছে। মানুষের কত টাকা-পয়সা দরকার? তাদের কি কোনো বিবেক নেই?

এ বিষয়টি সত্যিই অবাক করে। যারা এ কাজ করছেন তারা নিজের আশপাশের মানুষ এবং স্বজনদেরও মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছেন। তাদের কি আসলেই বিবেক-মানবিকতাবোধ বলতে কিছু নেই? 

লেখক: সাংবাদিক,
তথ্যসূত্র: ফেসবুক 



মন্তব্য