kalerkantho


'নিজের বাড়িতে আমাকে লুকিয়ে রেখে প্রাণে বাঁচিয়েছেন শহিদুল'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৯:৫০



'নিজের বাড়িতে আমাকে লুকিয়ে রেখে প্রাণে বাঁচিয়েছেন শহিদুল'

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনিবার ও রবিবার জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে আসেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। রবিবার রাতে ধানমন্ডির বাসা থেকে শহিদুলকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারও দেন তিনি। শহিদুলের বিরুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলাও করা হয়।

তার ব্যাপারে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। নিচে সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

'১৯৯৪ সালে জুন মাসে খালেদা জিয়ার সরকার আমার বিরুদ্ধে 'মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছি' এই অভিযোগ করে বাংলাদেশ ফৌজদারি আইনের ২৯৫/এ ধারায় মামলা করেছিল, গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছিল।'

‌'তখন আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপদেশ দিয়েছিলেন, আমি যেন আত্মগোপন করি, কারণ ধর্মান্ধ পুলিশ অথবা জেলের ভেতর ধর্মান্ধ কয়েদিরা আমাকে খুন করতে পারে, ধর্মীয় অনুভূতি বলে কথা!'

'আমার ওই চরম দুঃসময়ে আমাকে আশ্রয় দেওয়ার সাহস ঢাকা শহরে প্রায় কারোরই ছিল না। রাস্তায় তখন প্রতিদিন আমার ফাঁসির দাবিতে মিছিল করছিল লক্ষ লক্ষ মৌলবাদি। সেই সময় হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের বাড়িতে আমাকে লুকিয়ে রেখে আমাকে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন শহিদুল আলম।'

'নিচের ছবিগুলো ওঁরই তোলা। আমি আজ তাঁর দুঃসময়ে তাঁকে চরম অসম্মান আর হেনস্থা থেকে বাঁচিয়ে আনতে পারছি না, সে ক্ষমতা আমার নেই। আমি শুধু এইটুকু বলতে পারি, শহিদুল আলমের মতো সভ্য, শিক্ষিত, নির্ভীক মুক্তচিন্তককে ভিন্ন মত প্রকাশের জন্য আজ যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, এ তাঁর নয়, এ গোটা দেশের লজ্জা।'

'আজ শহিদুল আলমের দুঃসময় নয়, আজ বাংলাদেশের দুঃসময়।'

(এই বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নয়)



মন্তব্য

sagnikrohak commented 5 days ago
আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। সোমবার (০৬ আগস্ট) বিকেলে রমনা থানায় দায়ের হওয়া তথ্যপ্রযুক্তির একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি পুলিশের রিমান্ডে রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফটোগ্রাফার শহিদুল আলম ষড়যন্ত্র করেছেন, সাংবাদিকতা নয়। তিনি আলজাজিরাকে সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন তা সাংবাদিকতা পেশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি টুইটারে যা লিখেন তাও সাংবাদিকতার মধ্যে পড়েনা। শহীদুল আলমের ভেরিফাইড টুইটার একাউন্টের ছবি,টুইট দেখে মনে হবে আইএস এর সেকেন্ড ইন কমান্ড। বুঝার উপায় নেই, এটি একজন প্রগতিশীল ভাবধারার শিল্পীর একাউন্ট!! যদিও গ্রেপ্তারের পর পোস্টগুলো উধাও হয়ে গেছে । তার ব্যাকগ্রাউন্ড চমৎকার পজিটিভ-নেগেটিভ দুই ক্ষেত্রেই সমানে সমান। মেধাবী তো ইবলিশ শয়তানও। সেক্ষেত্রে শহিদুল আলমও দেশবিরোধী একজন ইবলিশ ও ষড়যন্ত্রকারী। তিনি বহুদিন ধরে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। এরপরও এই সরকারের সময় একচেটিয়া শত কোটি টাকার কাজ করেছেন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায়। ওই টাকা দিয়েই ষড়যন্ত্র চালিয়ে যেতেন। সরকারের কাছ থেকে পান্থপথে জায়গা বরাদ্দ নিয়ে নিজে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মিডিয়া অঙ্গনের একজন বিখ্যাত ব্যক্তি অনেকদিন আগে জানিয়েছিলেন, তাকে একবার ডেকেছিলেন শহিদুল আলম। তিনি গিয়ে দেখেন ডেভিড বার্গম্যান সেখানে বসে আছেন। শহিদুল আলম ওই মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে চাপ প্রয়োগ করলেন দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই এই সংক্রান্ত স্বাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য, যা আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে প্রচার হবে। তবে সাক্ষাৎকার নিতে সফল হননি। তবে অনেকের ক্ষেত্রে তিনি সফল হয়েছেন, যা আমরা দেখেছি। কে এই ডেভিড বার্গম্যান ? যিনি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে লবিং চালিয়েছেন, ব্যর্থ হয়ে এখন বিদেশে বসে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। তার আটকের খবরটিও প্রথম প্রকাশ করেছে বার্গম্যান। শহিদুল আলমকে দেশের মানুষ আরেকটি পরিচয়ে চিনে। বেগম জিয়ার ফটোগ্রাফার এবং মুভি নির্মাতা, যিনি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বানানোর জন্য মুভিতে জিয়ার নকল কণ্ঠ ব্যবহার করেছিলেন। এই শহিদুল আলম, মাহমুদুর রহমান ও ফরহাদ মজহার গং’মিলে গণজাগরণের তরুণ প্রজন্মকে ”নাস্তিক” উপাধিতে ভূষিত করেছিল। মতিঝিলে হেফাজতের ঘটনায় সাড়ে তিন হাজার আলেম হত্যার গুজবের অন্যতম নায়কও তিনি। যে সংগঠনটি এই গুজবের বৈধতা দিতে চেষ্টা করেছিল সেই সংস্থা “ অধিকার” এর অনত্যম একজন তিনি। কুখ্যাত রাজাকার সবুর খানের ভাগ্নে এই শহিদুল আলম। শিক্ষার্থীদের পরিবহন আন্দোলনকে সহিংস করার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে উস্কানি দিয়েছেন। তিনি ফটোগ্রাফার, ছবি তোলেন। কোনো অনুষ্ঠানে ছবি না তুললেও সবসময় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যখনই কোনো ঘটনা ঘটে ঐটার ছবি সবার আগে তোলেন শহিদুল আলম। বিষয়টা এরকম যে উনি মনে হয় আগে থেকেই ঘটনার কথা জানেন। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে আটকও হয়েছিলেন। কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রায় দেড়যুগ শহিদুল আলম পাঠশালা নামক প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক, ডিপ্লোমা, শর্ট কোর্স, লং কোর্স সার্টিফিকেট দিয়ে কোটি কোটি টাকা কমিয়ে নিয়েছেন। কিছুদিন আগে অনুমোদন পেয়েছেন এই সরকারের সময়ই। এই অনুমোদন হয়ে যাওয়ার কারণেই এখন আর টাকা লুটপাট করতে পারেননা। সরকারের প্রতি তার ক্ষোভের এটাও একটা কারণ। ওখানকার একজন সাবেক শিক্ষকের অভিযোগ, বিদেশ থেকে এই পাঠশালার নাম অনুদান নিয়ে ব্যক্তিগত তহবিলে স্থানান্তর করেছেন।